ঠাকুরগাঁও, সংবাদদাতা।।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবে ছাত্র, যুব ও গণঅধিকার পরিষদ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে পিআইও’র দ্রুত অপসারণ, দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টায় সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে অফিস পরিচালনা করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ এত রাতে অফিস পরিচালনার কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে একটি ‘সাজানো’ চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন এবং সাংবাদিক জিয়াউর রহমান। এছাড়াও রাণীশংকৈল উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী এবং সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌসসহ মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহিদ অভিযোগ করেন, পিআইও নুরুন্নবী সরকার বিগত সরকারের আমল থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তা উপজেলা ডাকবাংলোয় প্রায় এক মাস অবস্থান করে ১৪,৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অফিসে প্রকাশ্যে ধূমপান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সাংবাদিকদের তথ্য না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার এই কঠিন সময়ে আমার স্বামীর পাশে থাকা সবচেয়ে জরুরি ছিল। অথচ একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাজানো মামলায় তিনি আজ কারাগারে। আমি এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার মুক্তি দাবি করছি।”
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আক্রোশে নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। তারা দ্রুত পিআইও নুরুন্নবী সরকারকে রাণীশংকৈল থেকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।



















