রাজনগর ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাশিমপুর এলাকায় সাত বছরের এক নাবালক স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত মূল আসামি হুমায়ুন মিয়া (২০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের একটি চৌকস টিম। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজনগর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে রাজনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে রাজনগর উপজেলার ১নং ফতেপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের কাউসার মিয়ার ফিশারিতে কর্মরত ছিল অভিযুক্ত হুমায়ুন মিয়া। এই সময়ে একই এলাকার চতুর্থ শ্রেণির ওই নাবালক স্কুলছাত্রকে ফিশারির একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় ফিশারির মালিক কাউসার মিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত প্রায় ৮টার দিকে স্থানীয় সংবাদকর্মী আলী আহমদ রিপনের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় শিশুটিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে প
ুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে। পরিবারের অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর ফিশারির মালিক কাউসার মিয়া সংবাদকর্মী আলী আহমদ রিপনকে মোবাইল ফোনে কল করে কে তাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেছে—এ মর্মে প্রশ্ন করেন এবং উত্তেজিত ভাষায় কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুতকারীর কাছে ওই ফোনালাপের অডিও সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিশারির মালিক কাউসার মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত হুমায়ুন মিয়া আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন এবং রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক সহ
যোগিতায় র্যাবের একটি চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় রাজনগরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "এই ধরনের শিশু নির্যাতনকারী ও এর পক্ষে সুপারিশকারীকে কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না।" সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #রাজনগর #শিশুধর্ষন #আসামীগ্রেফতার
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।