ইনকিলাব মঞ্চের পরিচিত মুখ, ‘জুলাইযোদ্ধা’ শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তার নিজ এলাকা ঝালকাঠির নলছিটিতে শোকের মাতম চলছে। খাসমহল এলাকার প্রয়াত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে হাদির গুরুতর আহত হওয়ার খবর শুনে তার স্বজনরা দ্রুত ঢাকায় ছুটে যান। প্রতিবেশীরা হাদির বাড়িতে ভিড় করে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। এই সময় হাদির পরিবারের সদস্যরা তাদের গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হাদির বোন মাহফুজা বেগম কান্নারত অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওসমান হাদি সবসময় ভারতবিরোধী, বাংলাদেশপন্থি লেখা লিখত এবং ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলত। তার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দেশপ্রেম ছিল। তিনি বারবার তার ভাইকে সাবধান করেছিলেন। মাহফুজা বেগম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ভাই তোরে বাঁচতে দেবে না ওরা। তোরে আমেরিকা পাঠিয়ে দেব। ভারত এবং ‘র’ তোরে বাঁচতে দেবে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ দেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর সক্রিয়তা রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের মতো শত্রুর অভাব নেই।
এদিকে, হাদির ভগ্নীপতি দেশবাসীর কাছে হাদির আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি বিচার দাবি করে বলেন, হাদি শুধু তার পরিবারের সন্তান নন, তিনি নলছিটির, ঝালকাঠির এবং সারা বাংলাদেশের হাদি।
ওসমান হাদির পারিবারিক পরিচয় থেকে জানা যায়, তার বাবা মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ। হাদি নিজেও প্রথমে বাবার মাদ্রাসায় এবং পরে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। বরিশালের রহমতপুরে বিয়ে করা হাদির ঘরে এক বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এই মেধাবী যুবকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তার নিজ জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।