আন্দোলনের সময় দেয়ালে লেখা ছড়া, মিছিলে উচ্চারিত স্লোগান, মানুষের কণ্ঠে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদের ভাষা- সেসব স্মৃতি এবার বইয়ের পাতায়। গণআন্দোলনের সেই ছন্দময় ইতিহাসকে ধারণ করে প্রকাশিত হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ সংকলন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের শামসুর রহমান হল-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক, কবি জাকির আবু জাফর, জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ, সৈয়দ আল ফারুক এবং কবি হাসান আলীম।
সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন কবি আবিদ আজম, আর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কবি জিয়া হক। বইটিতে স্থান পেয়েছে প্রায় ৩১৩ জন ছড়াকারের লেখা, যেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, স্মৃতি ও আবেগ উঠে এসেছে ছন্দের ভাষায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ছড়া ছিল এক অনন্য শক্তি। দেয়ালে লেখা ছোট ছোট ছড়াগুলোই মানুষের মুখে স্লোগান হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যেই “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন” শীর্ষক একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশ করেছে।
বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, আন্দোলনের সময় মানুষের কণ্ঠে যে ছড়াগুলো উচ্চারিত হয়েছে, সেগুলো গণআন্দোলনের শক্তিকে জাগিয়ে তুলেছিল। তাঁর মতে, এই ছড়াগুলো আরও আগে সংকলিত করা গেলে সময়ের দলিল হিসেবে তা আরও সমৃদ্ধ হতো।
অনুষ্ঠানে কবি আতিক হেলাল বলেন, ছড়াকে আলাদা সংকলনে প্রকাশ করার বিষয়টি তাঁর কাছে কিছুটা বিতর্কের জন্ম দেয়। তাঁর মতে, কবিতা সংকলনের সঙ্গেই ছড়াগুলো প্রকাশ করা উচিত ছিল, কারণ আন্দোলনের অন্যতম প্রাণশক্তি ছিল এসব ছড়া।
অন্যদিকে জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ বলেন,
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ ভবিষ্যতে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দলিল হয়ে থাকবে।
সংকলনের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করতে গিয়ে কবি শামস আরেফিন বলেন,
২০২৪ সালের জুলাইয়ের ইতিহাস কেবল মিছিলের নয়; তা লেখা হয়েছে মানুষের রক্ত, কান্না ও আত্মত্যাগে। সেই ইতিহাসের শিল্পিত প্রকাশই এই কবিতা ও ছড়াগুলো।
সংকলনে একসঙ্গে স্থান পেয়েছেন প্রবীণ ও তরুণ প্রজন্মের বহু ছড়াকার। অগ্রজদের মধ্যে রয়েছেন আবু সালেহ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ফারুক হোসেন, আব্দুল হাই শিকদার, শাহীন রেজা, হাসান হাফিজ, এনায়েত রসুল, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহাবুদ্দীন নাগরী ও টোকন ঠাকুর।
পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ছড়াকারদের মধ্যে আছেন আবিদ আজম, আমির খসরু সেলিম, আরিফ বখতিয়ার, আহমদ সাইফ, এমরান কবির, কামাল হোসাইন, পলিয়র ওয়াহিদ, মঈন মুনতাসীর, মনসুর আজিজ, মুহিম মাহফুজ, শাকিল মাহমুদ, সাম্য শাহ, সুমন রায়হান ও সুজন হাসানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে উপস্থিত ছড়াকাররা নিজেদের লেখা ছড়া আবৃত্তি করেন। সেই আবৃত্তিতে ফিরে আসে আন্দোলনের দিনগুলোর উত্তাপ, স্বপ্ন আর সংগ্রামের স্মৃতি।
প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর, স্মৃতির ছন্দ আর ইতিহাসের দলিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ এখন সময়ের সাক্ষী হয়ে রইল।



















