পরিবারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ ও নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ বড় সাজ্জাদের..

মাজহারুল ইসলাম রানা avatar   
মাজহারুল ইসলাম রানা
পরিবারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ ও নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ বড় সাজ্জাদের..
পরিবারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ ও নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ বড় সাজ্জাদের..
অডিও বার্তায় হয়রানি বন্ধের দাবি: পুলিশের তালিকায় এখনও শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান..
আঞ্চলিক ভাষায় পড়ুন:

নিজের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, অপরাধ সংঘটন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠস্বর বিকৃত করে ভুয়া ভয়েস ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

সম্প্রতি প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় এসব অভিযোগ তুলে ধরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাজ্জাদ আলী খান।

অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে তার নামে বিভিন্ন ভয়েস বার্তা ছড়ানো হচ্ছে এবং তার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও কেউ তার নামে চাঁদা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সাজ্জাদ আলী খান দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে তার বাড়িঘর, গাড়ি, গবাদিপশু ও অন্যান্য সম্পদে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার পোষা কুকুরকে গুলি করে হত্যা এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ওই সময় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তবে আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে একেরপর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অডিও বার্তায় সাজ্জাদ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং ১৯৯৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ২০২৪ সালেও ঘটাছে বলেও তিনি মনে করেন।

নিজের অতীত সম্পর্কে সাজ্জাদ আলী খান দাবি করেন, ছাত্রজীবনে চট্টগ্রামের একটি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলার জন্য তিনি কারাগারে যান। পরে পরিবার তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় এবং গত দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি প্রবাসে রয়েছেন।

অডিও বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বের করে আনার একটি ঘটনারও বর্ণনা দেন তিনি।

তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অবরোধের মধ্যে বিএনপি নেতাদের অনুরোধে তিনি সহযোগীদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন এবং খালেদা জিয়াকে বের হয়ে আসতে সহায়তা করেন। সে সময় বিএনপি নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ওই অভিযানে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগী পরবর্তীতে নিহত হয়েছেন এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই জীবিত রয়েছেন।

অডিও বার্তায় সাজ্জাদ আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার পরিবারকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তার ভাই ওসমান আলী সহ স্বজনদের বিরুদ্ধে থানা ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের বিয়েবাড়ি ও হাসপাতাল থেকে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের বিরুদ্ধেও পরিকল্পিত অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তোলেন সাজ্জাদ। তার দাবি, এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ফোন রেকর্ডিং ও ভয়েস ক্লিপ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অডিও বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, দল ও পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। পরিবারের ওপর হয়রানি বন্ধ, নিরীহ স্বজনদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নাম ব্যবহার করে পরিচালিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

*আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণে সাজ্জাদ আলী খান*

যদিও অডিও বার্তায় নিজেকে ও পরিবারকে হয়রানির শিকার দাবি করেছেন সাজ্জাদ আলী খান, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।

একসময় চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড ছিল ‘শিবির’ নাছিরের নিয়ন্ত্রণে। ক্রসফায়ার, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও পুলিশি অভিযানে সেই সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার পর ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করেন সাজ্জাদ আলী খান। মাঠপর্যায়ের ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র বলছে, সাধারণ অপরাধে জেলে যাওয়া অনেক ব্যক্তিকে জামিনে মুক্ত করার পর সাজ্জাদের নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথমে তাদের নজরদারি, অস্ত্র পরিবহন ও মোটরসাইকেল চালানোর মতো কাজ দেওয়া হয়। পরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হত্যা ও সশস্ত্র হামলার মতো উচ্চঝুঁকির কাজে ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রায়হান আলম, মোবারক ইমন, বোরহান, ছোট সাজ্জাদ এবং শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যার নাম আলোচনায় রয়েছে। নিহত সরওয়ার হোসেন বাবলাও একই প্রক্রিয়ায় অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, রায়হানের বিরুদ্ধে খুন, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই তার বিরুদ্ধে আটটি হত্যা মামলা হয়েছে। মোবারক ইমন ও বুইস্যা বর্তমানে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

*একের পর এক হত্যাকাণ্ডে নাম জড়ানোর অভিযোগ*

নব্বইয়ের দশকে ‘খুকুমণি’ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাজ্জাদ আলী খান পরবর্তীতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময় তার নাম জড়িয়েছে যুবলীগকর্মী শ্যামল, জাফর ও দিদার হত্যা, ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্রলীগ নেতাদের টার্গেট কিলিং, ওয়ার্ড কমিশনার লিয়াকত আলী খান হত্যা, এইট মার্ডার, ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাশেম ও আবু তাহের হত্যাকান্ডের ঘটনায়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জোড়া খুনসহ অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যদের নাম উঠে এসেছে।

এদিকে সাজ্জাদ আলী খানের প্রকাশিত অডিও বার্তায় এসব অভিযোগের বিপরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, যখন কোনো অসৎ, নিকৃষ্ট চরিত্রের মানুষ প্রকাশ্যে আপনার বিরুদ্ধে এ ধরণের কথা বলে, আপনাকে অপমান ও বদনাম করার চেষ্টা করে বা আপনার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে, তখন এটি ইঙ্গিত করে আপনি এমন একটি অবস্থানে আছেন, যা তাদের স্বার্থ, ঈর্ষা ও মানসিকতাকে অস্বস্তিতে ফেলছে- এবং অপনি সঠিক অবস্থানে আছেন।

তবে প্রকাশিত অডিও বার্তা ও সাজ্জাদ আলী খানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খবরের সাথে চ্যাট করুন (AI Chat with the News)
Powered by AI
📋 ৩ লাইনে সারসংক্ষেপ
🔍 মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট
👥 প্রধান ব্যক্তি/পক্ষ
⚡ প্রভাব ও পরিণতি
AI Assistant
নমস্কার/সালাম! আমি এই সংবাদের বিবরণটি পড়েছি। এই খবরের যেকোনো তথ্য জানতে আমাকে প্রশ্ন করুন।
এআই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন (AI Satirical Cartoon)
Instant Caricature
Eye News Logo

সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator