প্রবাসীর পরিবারের উপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

মোঃশরিফ হোসেন avatar   
মোঃশরিফ হোসেন
জমি খরিদকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি মামলা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়নের সেচুয়ালেজি গ্রামে বসতভিটার পাশের জমি খরিদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী রিপন মিয়া সম্প্রতি তার বসতঘরের পাশে একটি ছোট খণ্ড জমি ক্রয় করেন। এ জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে একই বাড়ির কাউসার গংদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে এবং ধীরে ধীরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

প্রবাসী রিপন মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম অভিযোগ করে জানান, প্রথম দিকে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কাউসার গংরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তদের সতর্ক করা হলে তারা কিছু স্বর্ণালংকার ফেরত দিলেও নগদ অর্থ ফেরত দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ ঘটনার পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন রিপন মিয়া। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং গত মার্চ মাসে উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সীমানা নির্ধারণের পরও বিরোধের অবসান হয়নি।

 

আমেনা বেগম আরও জানান, গত ৩ মার্চ সকালে তার স্বামী জমির সীমানা ঘিরে বেড়া দিতে গেলে কাউসার গংদের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পরে ঘরে ঢুকে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং তার ওপরও আক্রমণ চালায়। এ সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ পুনরায় লুট করা হয়।

 

স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন মিয়া ও আমেনা বেগমকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলে অভিযুক্তরা তাদের হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

পরিস্থিতির অবনতি হলে ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং অভিযুক্ত পক্ষের দায়ের করা মামলায় রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

 

স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, রিপন মিয়ার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

এদিকে, আমেনা বেগম চাঁদপুর আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

 

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জব্বার বলেন, “কে পক্ষ আর কে বিপক্ষ, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা আমাদের দায়িত্ব। তদন্ত শেষে দোষী-নির্দোষী আদালত নির্ধারণ করবেন।”

 

অপরদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল জানান, তিনি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে আমেনা বেগমের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর জয়ানাল আবেদীন জানান, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।

 

অভিযুক্ত কাউসার গংদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

 

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলছেন, একই বাড়িতে বসবাসরত দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator