পীরগঞ্জে ''একতা ক্লিনিক'' এ সিজারের ৯ দিন পর মৃত্যু -- আড়াই লাখ টাকায় মিমাংসা..

Md Asaduzzaman  avatar   
Md Asaduzzaman
পীরগঞ্জে ''একতা ক্লিনিক'' এ সিজারের ৯ দিন পর মৃত্যু -- আড়াই লাখ টাকায় মিমাংসা..

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে একতা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম এ ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

শেষ পর্যন্ত আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল রাণীশংকৈল উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার আনিসুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তারের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে পীরগঞ্জের একতা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোমে আনা হয়। ১১ হাজার টাকায় সিজারের চুক্তিতে তাকে ভর্তি করায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

কিন্তু অপারেশনের পর থেকেই প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে বিপাকে পড়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সহযোগিতায় রোগীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ২৩ এপ্রিল আবারও তার অপারেশন করা হয়। এতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে লাশ নিয়ে স্বজনরা পীরগঞ্জের একতা ক্লিনিক ঘেরাও করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে নিহতের পরিবারের রফাদফা হলে স্বজনরা লাশ নিয়ে চলে যান।

নিহতের স্বামী আনিসুর রহমান বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার স্ত্রী মারা গেছে। নবজাতক শিশুটির এখন কি হবে?
একতা ক্লিনিকের পরিচালক আসলাম জানান, রোগীর অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। হৃদরোগ ও কিডনিসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিল।

সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়নি। বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, যেহেতু মৃত্যুটি অন্য জেলায় হয়েছে, তাই স্থানীয়ভাবে আমাদের আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাছাড়া এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ জানায়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator