যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকির সুরে কথা বলছেন, তখনই বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে ইরান জানিয়ে দিল—তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা ইতিমধ্যেই খালি করে ফেলা হয়েছে।
আজ একটি সরাসরি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার উপ-রাজনৈতিক পরিচালক হাসান আবেদিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবেদিনি বলেন,ট্রাম্প যেটাই বলুন না কেন, আমরা বড় ধরনের কোনো ক্ষতির মুখে পড়িনি, কারণ গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সম্পর্কে সচেতনই ছিল না, বরং তারা সম্ভাব্য হামলার আগেই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে যথাযথ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ইরানের কৌশলগত পরিণত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের আগে পরমাণু স্থাপনাগুলো খালি করে ফেলা নিঃসন্দেহে তাদের একটি জিওপলিটিক্যাল জয় বলেই বিবেচিত হবে। এতে করে ইরান যেমন মাঠে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরেছে, তেমনি কূটনৈতিকভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিরক্ষা সচেতনতা প্রমাণ করেছে।
বিশ্লেষকরা এটিও বলছেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য হয়তো জনসাধারণের মনোভাব প্রভাবিত করার জন্য ছিল, কিন্তু ইরান যে এর আগেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত চমক।
যদিও ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে স্থাপনাগুলো খালি করে ফেলা হয়েছে, তবে এখনো অজানা রয়ে গেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই পরমাণু উপাদানগুলো কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে?
এ বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পরমাণু অস্ত্র বা উপাদান গোপনে স্থানান্তরের বিষয়টি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IAEA) ও জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় থাকা নিয়মনীতির বিরোধিতা করে।
তবে ইরানের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পটভূমিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইরান এক ধরণের "চালাকি চাল" খেলেছে। ট্রাম্প যেখানে হুমকির রাজনীতি করছেন, সেখানে ইরান শান্তভাবে ও নিপুণভাবে আগেভাগেই চাল দিয়ে রেখেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এটি একপ্রকার মানসিক জয়েরও বার্তা হতে পারে। কারণ ইরান এখানে হুমকিকে ভয় না পেয়ে, উল্টো কৌশলগত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলেছে।
বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পরবর্তী পরিণতির দিকে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এই ধরণের উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নতুন উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের “আগে থেকেই খালি করা” সিদ্ধান্ত কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, এটি একপ্রকার চালাকির বার্তাও বহন করে—বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত যে, ইরান শুধু শক্তিশালী নয়, কৌশলগতভাবেও অনেক এগিয়ে।



















