‎অলৌকিক ক্ষমতায় ত্রিশাল থানা থেকে জনবান্ধব ফিরোজের বিদায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ‎..

RAJU HOSSAIN avatar   
RAJU HOSSAIN
‎স্টাফ রিপোর্টার

 

‎যেখানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি আর সততার চেয়ে অদৃশ্য ক্ষমতা আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জোর অনেক বেশি। নির্বাচন উপলক্ষে তড়িঘড়ি করে বদলি হওয়া সাবেক ওসি মনসুর রহমান আবারও অলৌকিক ক্ষমতায় ত্রিশাল থানার সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছেন। আর এতেই প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশি প্রশাসনে জনমতের কি তবে কোনো মূল্য নেই?

‎​জানা যায়, ​বর্তমান ওসি ফিরোজ হোসেন যোগদানের পর থেকেই ত্রিশাল থানার চিরচেনা চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছিল। সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে হয়রানির বদলে পাচ্ছিল আইনি সেবা। ঘুষ-তদবিরের রাজত্ব কমিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি অল্প দিনেই কুড়িয়েছিলেন সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ প্রশংসা। কিন্তু কথায় আছে, ভালো মানুষের কদর সব জায়গায় থাকে না। জনবান্ধব এই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে যখন সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখছিল, ঠিক তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো উড়ে এলো সাবেক ওসির প্রত্যাবর্তনের খবর।

‎​

‎​নির্বাচনী ডামাডোলে যাকে নিয়ম মেনে বদলি করা হয়েছিল, কোন মন্ত্রবলে তিনি আবার একই থানায় ফিরে এলেন, তা নিয়ে পুরো উপজেলায় চলছে মুখরোচক আলোচনা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ত্রিশাল কি তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য বরাদ্দকৃত জমি? এই অলৌকিক বদলির পেছনে কোন প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে বইছে আলোচনার ঝড়। অপরদিকে ​থানার অন্দরে আরও এক বিস্ময়কর চরিত্র হয়ে আছেন বর্তমান তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল। তিনি যেন এই থানার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই থানায় এসআই পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর পদোন্নতি পেয়েও তিনি এলাকা ছাড়েননি। পদোন্নতি মানেই যেখানে অন্য কর্মস্থলে বদলি হওয়ার কথা, সেখানে তিনি ত্রিশাল থানাতেই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ গেড়ে বসে আছেন। বছরের পর বছর একই থানায় অবস্থান করে তিনি যে প্রভাব-প্রতিপত্তির বলয় তৈরি করেছেন, তা নিয়ে খোদ পুলিশের ভেতরেই কানাঘুষা চলছে।

‎​ফিরোজ হোসেনের মতো একজন সৎ কর্মকর্তাকে সরিয়ে বিতর্কিত পদ্ধতিতে পুরনো ওসিকে ফিরিয়ে আনা এবং তদন্ত ওসির বছরের পর বছর একই স্থানে টিকে থাকা, সব মিলিয়ে ত্রিশালের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন, প্রশাসন কি জনগণের সেবার জন্য, নাকি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শনের চারণভূমি?

‎​সততার পরাজয় আর ‘অলৌকিক’ ক্ষমতার এই খেলা বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের আইনি ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই অলৌকিক বদলির রহস্য উন্মোচন করে জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।

No comments found


News Card Generator