নাঙ্গলকোটে মতবিনিময় সভায় এনসিপি নেতা জয়নাল আবেদীন শিশির ঘোষণা দেন, চাঁদাবাজ-মুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নতুন সংবিধানের জন্য আন্দোলন হবে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নতুন সংবিধানের দাবিতে বিক্ষোভ ও মতবিনিময় সভায় জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব ও কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী জয়নাল আবেদীন শিশির। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাঙ্গলকোট বাজারের জাকের টাওয়ারে এনসিপির উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিশির বলেন, “আমরা বাংলাদেশে শুধু রাজনীতি করতে আসিনি; আমরা এসেছি চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং টেন্ডারবাজদের কবর রচনা করতে। নাঙ্গলকোটে চাঁদাবাজদের কোনো স্থান হবে না। এখান থেকেই দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশের সূচনা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সংবিধান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, “মুজিববাদী সংবিধান দিয়ে এ দেশ আর চলতে পারে না। যেই সংবিধান দিয়ে শেখ হাসিনা ভোট ছাড়াই দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিলেন, সেই সংবিধান জনগণ মেনে নেবে না। একটি নতুন সংবিধান প্রয়োজন, যা হবে জনগণের জন্য, জনগণের স্বার্থে।”
শিশির স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, যারা মুজিববাদ, মুদিবাদ বা বর্তমান সংবিধানের পক্ষে কথা বলবেন, তাদের সঙ্গে এনসিপির কর্মীরা রক্ত দিয়ে লড়াই করবে। তিনি দাবি করেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাঙ্গলকোট উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আল আমিন ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফসা জাহান, কুমিল্লা জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর নেতা শরীফ ওবায়দুল্লাহ এবং জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ ইসহাক।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম, ডা. ফয়সাল হোসেন, আল আমিন ইভান, ইঞ্জিনিয়ার সাবের হোসেন, শরীফ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ও হোসেন প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা এনসিপির সদস্য মীর মাহাদি।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, সংসদ সদস্য বা চেয়ারম্যান হওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য নয়। বরং তারা একটি চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চান। তাদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র পথ হলো নতুন সংবিধান প্রণয়ন।
মতবিনিময় সভা শেষে এনসিপির নেতাকর্মীরা নাঙ্গলকোট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে তারা “চাঁদাবাজি বন্ধ করো”, “দুর্নীতি নিপাত যাক” এবং “নতুন সংবিধান চাই”—এমন স্লোগান দেন। স্থানীয় জনগণও এ সময় মিছিলে সংহতি প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই কর্মসূচি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নতুন সংবিধানের দাবি সামনে এনে তারা একটি নতুন রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করেছে।
শিশিরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এনসিপি এখন শুধু আন্দোলন নয়, বরং জনমত সংগঠনের মাধ্যমে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।