রাকিব খান, জবি প্রতিনিধি
স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও নির্ভুল ইতিহাস পুরোপুরি রচিত হয়নি, যা জাতির জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মিথ্যা বয়ান থেকে বের করে একটি নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক রূপে সামনে আনা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ‘অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও ইপিআর সদস্যদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখনো শহীদের সঠিক সংখ্যা ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, যা ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পূর্বপরিকল্পিত দমন-পীড়ন, যা মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামকে অনিবার্য করে তোলে। তিনি ইতিহাসচর্চায় বহুমাত্রিক উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। আলোচনায় অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং জবির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনা করেন ড. মোঃ আনিসুর রহমান। শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।



















