আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত বাসন্ডা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী অতুল মাঝির খেয়াঘাট এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়া এই ঘাটটি বর্তমানে শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিনের শত শত যাত্রীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি, কেফাইতনগর ও ওমেশগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই খেয়াঘাট। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এই ঘাট ব্যবহার করে নদী পার হন। কিন্তু ঘাটের ঢালাই অংশ ভেঙে গিয়ে বড় বড় ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় নৌকায় ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পিচ্ছিল পরিবেশে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে বিকল্প হিসেবে পাশেই একটি অস্থায়ী স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে যাত্রী পারাপার করা হলেও সেখানে নেই কোনো নিরাপদ অবকাঠামো। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
খেয়াঘাটের ইজারাদার স্বপন মজুমদার জানান, প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো এই ঘাটটি বংশ পরম্পরায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও পানির চাপে সিঁড়ির গোড়ার মাটি সরে গিয়ে ঘাটটি ভেঙে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একাধিকবার মাপঝোক ও নকশা করা হলেও এখনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘাট শুধু যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থানও। তাই দ্রুত এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পৌরসভার প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ঘাটটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় একটি প্রকল্পে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চারটি বড় ঘাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে অতুল মাঝির খেয়াঘাটের জন্য দুটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিগগিরই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে খেয়াঘাটটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হলে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।



















