ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ মোড়ে এসে পৌঁছেছে। বিশিষ্ট সমর বিশেষজ্ঞ মেজর গৌরব আর্যের মতে, আমেরিকা এখনো তাদের পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেনি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
মেজর আর্য মনে করেন, ইরানের অভ্যন্তরে গিয়ে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের মাধ্যমে তাদের পাইলটকে উদ্ধার করা আমেরিকার জন্য এক বিশাল বিজয়। ইরান চেয়েছিল পাইলটকে বন্দি করে বিশ্বজুড়ে প্রচারণার মাধ্যমে আমেরিকাকে লজ্জিত করতে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্গম পাহাড় ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও আমেরিকা তাদের সেনাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, যা ইরানের ‘প্রোপাগান্ডা মেশিন’-কে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো 'হরমোজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেওয়া। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন ওমানের উপকূল ঘেঁষে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাচল করছে। এর ফলে ইরানের অবরোধ বা ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনা অনেকটা ভেস্তে যেতে বসেছে। ইরান এখন ওমানি জলসীমায় হামলা চালাবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নাগাদ হরমোজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এদিকে, ইরান গত এক মাস ধরে পুরো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ভেতরে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন রাখতেই এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করা হয়েছে।
মেজর গৌরব আর্য মনে করেন, আগামী ৩৬ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ট্রাম্প কি আসলেই ‘নরকের আগুন’ (Hell Rain) নামিয়ে আনবেন, নাকি এটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন কোনো কৌশল—তা শীঘ্রই পরিষ্কার হয়ে যাবে।



















