বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন বিজিবি সদস্য নায়েক মো. আক্তার হোসেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে মর্মান্তিক মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য নায়েক মো. আক্তার হোসেন। রবিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে নিয়মিত সীমান্ত টহলের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের তুমব্রু এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের কারণে সীমান্তজুড়ে বেড়ে গেছে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি। বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল চালানোর সময় এসব লুকানো মাইনের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় প্রতিটি সদস্যকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময় নায়েক আক্তার হোসেনের অবস্থান ছিল সীমান্তের ৩১ নম্বর পিলারের কাছাকাছি। হঠাৎ এক প্রবল শব্দের সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে, এবং মুহূর্তেই তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আক্তার হোসেনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় আরও উন্নত চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বিজিবির নিজস্ব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়।
বিজিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আহত সদস্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দোয়া চেয়েছেন।
অন্যদিকে সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারের সংঘর্ষ পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত এলাকায় অজানা স্থানে মাইন পেতে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে টহলরত সদস্যদের জন্য বিপদের আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন থেকে সীমান্তে আরও সতর্কভাবে টহল পরিচালনা করছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় গুলিবিনিময় ও বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সীমান্তবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক গ্রামবাসী ইতিমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। বিজিবি জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে এবং সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে নায়েক আক্তার হোসেনকে সিএমএইচে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত সদস্যের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার পর থেকে সীমান্তে টহলরত সদস্যদের মানসিক চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে পালন করবে।