লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
****

 

খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি 

 

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভুল রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নির্ধারিত মূল্যতালিকাও প্রকাশ্যে টাঙানো হয় না। ফলে রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেরই সরকারি অনুমোদন নেই।

 

উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারের বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, এখানকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ভুল রিপোর্ট পেয়েছি। পরে অন্য জায়গায় গিয়ে আবার পরীক্ষা করতে হয়েছে। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি গেছে।

 

রফিকুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানকার ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষার ফি একেক সময় একেক রকম নেওয়া হয়। কোনো নির্ধারিত তালিকা নেই। আমাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে ভাদুরিয়া বাজারের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। আমরা নিয়ম মেনেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

 

স্থানীয় ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব দীপক চন্দ্র দাস বলেন, অনুমোদনহীনভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, সরকারি অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ পেলে কাগজপত্র যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

 

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator