কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ রোমাই পাড়া এলাকায় পারিবারিক কারণে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় আহত রোগীর উপর কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে হামলার ঘটনায় যুবদল নেতা আবদুল আজিজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদি কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বড়ঘোপ মিয়ার পাড়া ব্রাক সেন্টার এলাকার মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে যুবদল নেতা আবদুল আজিজ। এছাড়াও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বড়ঘোপ রোমাই পাড়ার মৃত আবদু শুক্কুরের ছেলে রাকিব, শাকিব, আকিব এবং স্ত্রী মোশারফা বেগম। মুরালিয়া গ্রামের ডেকোরেশন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের ছেলে মোঃ সৌরভও এই মামলায় অভিযুক্ত। এছাড়াও আরও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৭ তারিখ বাদির মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ির উঠানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন বাদির স্ত্রী আনিচা বেগম। সেই সময়ে ৫ নং আসামী মোশারফা এসে বাদির স্ত্রীকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে মারধর করলে বাদির স্ত্রী আনিচা গুরুতর আহত হন এবং তাকে চিকিৎসার জন্য কুতুবদিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ২ নং আসামী রাকিব রোগীর উপর হামলা চালান। কিছুক্ষণ পর আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যক্তি দা, ছুরি, কিরিচ ইত্যাদি বেআইনি অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। তারা রোগী ও সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে।
এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কুতুবদিয়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজকর্মীরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা কুতুবদিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি উদাহরণ হিসাবে দেখা হচ্ছে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, এই ধরনের সহিংসতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপও অপরিহার্য।