নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুড়িগ্রাম: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে জয়ী হওয়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (NCP) প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ এখন ব্যস্ত চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে। তবে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত কর্মকাণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে 'কুড়িগ্রাম মিনি পার্লামেন্ট'। আজ এই প্ল্যাটফর্মে স্থানীয় জনতার মুখোমুখি হয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
মিনি পার্লামেন্টের মূল প্রতিপাদ্য
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ড. আতিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল সংসদে গিয়ে কথা বলবেন না, বরং কুড়িগ্রামের মাটিতে বসে জনগণের সংসদ গঠন করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের সেশনে উঠে এসেছে কুড়িগ্রামের প্রধান প্রধান সংকটের কথা:
- ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদী ভাঙন: নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন।
- কৃষক কার্ড ও সরাসরি ভর্তুকি: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত 'কৃষক কার্ড' বাস্তবায়নে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করা।
- বেকারত্ব ও শিল্পায়ন: উত্তরবঙ্গের অবহেলিত এই জেলায় শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
জবাবদিহিতার নতুন মডেল
মিনি পার্লামেন্টে সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি এমপির কাছে তাদের এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সমস্যা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ড. আতিকুর রহমান প্রতিটি প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দেন এবং সময়সীমা নির্ধারণ করে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন,
"আমি আপনাদের প্রতিনিধি, শাসক নই। এই মিনি পার্লামেন্ট হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে সাধারণ মানুষই হবে সব ক্ষমতার উৎস।"
এক নজরে ড. আতিকুর রহমানের বিজয়
উল্লেখ্য যে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে ড. আতিকুর রহমান (শাপলা কলি প্রতীক) ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর এই বিজয় কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















