কক্সবাজার জেলা পরিষদের ইতিহাস ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বর্তমান প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী। জেলা পরিষদের অতীত চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের নাম পুনরায় স্মরণিকা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি ইতিহাস সংরক্ষণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৮ আগস্ট ১৯৮৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ. এইচ. সালাহ উদ্দিন মাহামুদ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকগণ (ডিসি) জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০ ডিসেম্বর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের স্মরণিকা তালিকা থেকে প্রথম চেয়ারম্যান এ. এইচ. সালাহ উদ্দিন মাহামুদসহ পূর্বে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের নাম বাদ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি বিষয়টি বর্তমান প্রশাসকের নজরে এলে তিনি এটিকে ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলে মন্তব্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, “বিগত সময়ে যারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবার নাম নতুন করে স্মরণিকা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যারা এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের নাম বাদ দেওয়া মানে ইতিহাস বিকৃতির সামিল। ইতিহাসকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। অন্যথায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।”
স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জেলা পরিষদের ইতিহাস সংরক্ষণে প্রশাসকের এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জেলা পরিষদ ব্যবস্থার ঐতিহাসিক ভিত্তি ব্রিটিশ আমলে প্রণীত Local Self-Government Act, 1885-এর মাধ্যমে গঠিত জেলা বোর্ড ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালের Local Government Ordinance-এর আওতায় জেলা পরিষদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে পুনর্গঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪ জেলায় পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।মো. হারুনুর রশিদ কুতুবী বলেন, “ইতিহাস কখনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত স্মৃতি ও উত্তরাধিকার। কক্সবাজার জেলা পরিষদের অতীত চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ইতিহাসকে বিকৃতি নয়, সত্য ও মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।”
একইভাবে মঞ্জুর আলম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অতীতের ইতিহাস সংরক্ষণ করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বশীলদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আলহামদুলিল্লাহ।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ইতিহাস ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি সংরক্ষণে বর্তমান প্রশাসকের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।