কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

MD JAHANGIR ALAM avatar   
MD JAHANGIR ALAM
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সরিষাপুর গ্রামে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে উত্তম গাঙ্গুলী নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে..

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের সরিষাপুর গ্রামে ৭ জুন রবিবার বিকেলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ভয়াবহ বলি হলেন উত্তম গাঙ্গুলী নামের ৪৭ বছর বয়সী এক কৃষক। ঘটনার দিন বিকেল ৬টার দিকে তিনি নিজ গৃহপালিত গরু মাঠে আনতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার সাথে সাথে আকস্মিক বজ্রপাতের তীব্রতায় তিনি গুরুতরভাবে দগ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত দুলাল গাঙ্গুলীর সন্তান উত্তম গাঙ্গুলী দীর্ঘ সময় ধরে কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, যার ফলে তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্থান স্থানীয় জনজীবনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে ছুটে গেলেও ততক্ষণে তার প্রাণহীন দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ভুক্তভোগীর পরিবার এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বা সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই। নিহতের স্বজনরা জানান, মাঠে কাজের প্রয়োজনে কৃষকদের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হয়, কিন্তু বজ্রপাত থেকে বাঁচার মতো কোনো অবকাঠামো বা সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সেখানে অনুপস্থিত। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, উত্তম গাঙ্গুলীর মতো একজন কর্মঠ মানুষের মৃত্যুতে তার পরিবার এখন চরম অসহায়ত্বের মুখে পড়েছে। একদিকে কৃষিকাজ এবং অন্যদিকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি যে সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন, তা আজ এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম শহিদুল্লাহ জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হলেও, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তবে এ ধরনের মৃত্যু রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপনের দাবি তুলেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

উত্তম গাঙ্গুলীর অকাল মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং কৃষিপ্রধান জনপদগুলোতে ক্রমবর্ধমান বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যর্থতার একটি করুণ প্রতিফলন। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আগাম সতর্কতা সংকেত প্রচারের ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, প্রতি বছর মাঠে কাজ করতে গিয়ে এভাবেই শত শত কর্মঠ মানুষ প্রকৃতির রোষানলে পড়ে প্রাণ হারাবেন, যা দেশের কৃষি অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator