. খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি এখন ‘নব্য বিএনপি
* অবৈধ কমিটির দাপটে কোণঠাসা সাধারণ কর্মচারীরা
* আওয়ামী লীগের ‘ব্রিটিশ মাসুদ’ এখন বিএনপির ছত্রছায়ায়
* শ্রম আইন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘অবৈধ’ কমিটি।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এ শুরু হয়েছে সুবিধাবাদীদের ভোল পাল্টানোর মহোৎসব। বিগত সরকারের আমলে দাপট দেখানো নেতারা এখন খোলস বদলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য এবং বিটিসিএল কর্মচারী লীগের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ ওরফে ‘ব্রিটিশ মাসুদ’-এর নাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রিটিশ মাসুদ বিগত সরকারের সময় বিটিসিএলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাসহ একাধিক মামলার এই আসামি এখন ভোল বদলে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে মগবাজার টিএনটি কলোনি কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি পদ দখল করে এবং বিতর্কিত আহ্বায়ক ভিপি মো. হানিফের ছত্রছায়ায় বিটিসিএল এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে।
বিটিসিএল কর্মচারী ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ব্রিটিশ মাসুদ ও তার সিন্ডিকেট উর্ধ্বতন কর্মকতাদের মাসোয়ারার বিনিময়ে বিটিসিএল অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারটি অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এখান থেকে প্রতি মাসে অর্জিত প্রায় দেড় লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এছাড়াও কলোনির সরকারি কোয়ার্টার ও ঘর কেনাবেচার এক বিশাল বাণিজ্য গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সৈয়দ আহম্মদের ঘর অবৈধভাবে ইমাম মো. আতিকের কাছে হস্তান্তর, মোয়াজ্জিন লোকমান হোসেনের ঘর বহিরাগতদের কাছে বিক্রি, গাড়িচালক আওলাদ হোসেনের কোয়ার্টার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মোস্তফা নামক এক ব্যক্তির কাছে বরাদ্দ ও বিক্রি। এমনকি ভিপি মো. হানিফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিটিসিএল কর্মচারী সংগঠনের (রেজিঃ নং বি-১৯০০) স্বঘোষিত আহ্বায়ক বনে গেছেন। তবে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শ্রম অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩১৭ (৪) ঘ বিধান অনুযায়ী এই আহ্বায়ক কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি না থাকা স্বত্তেও কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিটিসিএল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিটিসিএলের সাধারণ কর্মচারীরা এখন এই ‘হাইব্রিড’ ও ‘সুবিধাবাদী’ সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে বিটিসিএল অডিটোরিয়াম'র দায়িত্বে থাকা মাসুদুর রহমানের কাছে যোগাযোগ করা হলে উনি মামলার বিষয়ে তথ্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে। অন্যদিকে বিটিসিএল এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কর্পোরেট এফেয়ার্স) রতন কুমার হালদার এবিষয়ে তথ্য প্রদানে কৌশলে এড়িয়ে যান।



















