সাম্প্রতি দোহার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নাজমা এলাকায় বাসা নিয়েছি, এর আগেও কয়েকবার এখানে আসা হয়েছে। আর যতবারই এসেছি মনে হয়েছে যেন নিজ মাতৃভূমিতে আছি।
নাজমা কাতারে অন্য সব এলাকা থেকে একদমই আলাদা, এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসীর আবাসস্থল, যা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিকে লক্ষ করা যায়। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে, লোকজনের বাংলা কথোপকথনের পরিচিত শব্দ, বাংলায় লেখা দোকানের সাইনবোর্ড, স্থানীয় রেস্তোরাঁ থেকে ভেসে আসা ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবারের সুবাস আপনাকে মাতৃভূমির কথ মনে করিয়ে দিবে।
এখানকার ব্যাবসায়ীদের বেশির ভাগই বাংলাদেশী, দোকানগুলি ঢাকা বা চট্টগ্রামের দোকনগুলির মতো। বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা শাকসবজি, মাছ মাংস থেকে শুরু করে মশলাপাতি সবই এখানে পাওয়া যায়। শুধু তাই ঐতিহ্যবাহী গামছা লুঙ্গি সহ সবধরনের বাংলাদেশী পোশাকে বিশাল সমারোহ রয়েছে এখানে।
বাজারের বাইরে, নাজমা বাংলাদেশী সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবসর সময়ে কাতারে অন্যান্য এলাকা থেকে অনেকেই এখানে পরিচিত কারো সাথে দেখা করতে বা শপিং করতে কিংবা সময়কাটাতে এখানে আসেন। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোও এখানে উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। ঈদের মতো প্রধান উৎসবগুলিতে সাজসজ্জা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং স্বদেশীদের উদযাপনে এলাকাটিকে প্রাণবন্ত করে তুলে । শুক্রবারও মসজিদগুলিতে জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী উপাসক উপস্থিত হন।
অনেক বাংলাদেশী কাতারে বছরের পর বছর অবস্থান করছে, দেশে যাওয়াও অনেকের কাছে স্বপ্নের মত ব্যাপার, তাই দেশের পরিচিত পরিবেশের মতো এই এলাকায় বসবাসের জন্য অনেককেই আকৃষ্ট করছে।
নাজমা, অনেক দিক থেকে, কেবল একটি শহর নয়; এটি কাতারে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের জন্য বাড়ি থেকে দূরে একটি বাড়ি।



















