দীর্ঘ কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান। হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আজই তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
১. মুক্তির মুহূর্ত ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানিয়েছেন, সাবেক স্পিকারের জামিননামার কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল ৫টার দিকে তাকে কারাগার থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। কারাফটকে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং মুক্তির পর তিনি একটি বেসরকারি গাড়িতে করে কারাগার ত্যাগ করেন।
২. মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছেন, গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় একটি সংঘাতের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছিল।
-
ঘটনা: ১৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখে আন্দোলন চলাকালে মো. আশরাফুল (ওরফে ফাহিম) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
-
ক্ষতিগ্রস্ত: ওই ঘটনায় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে ফাহিমের বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
-
মামলা: গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সাবেক স্পিকারকে অন্যতম আসামি করা হয়েছিল।
৩. অন্যান্য আইনি বাধা নিরসন
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আর কোনো সক্রিয় মামলায় আটকাদেশ (Warrant of Precedents) না থাকায় তার মুক্তিতে কোনো আইনি বাধা ছিল না। আজ দুপুরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই তার আইনজীবীরা দ্রুত জামিননামা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
৪. রাজনৈতিক পরিচিতি
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তির সময় শিরীন শারমিন চৌধুরী গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি। তবে তার আইনজীবীরা একে ‘ন্যায়বিচারের প্রাথমিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে তিনি তার নিজ বাসভবনে বিশ্রামে আছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।



















