আজ ১ মে, মহান মে দিবস। দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার আহবানে পালিত এই দিনে বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণির জন্য এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হতে যাচ্ছে। ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে প্রথম মে দিবস পালিত হচ্ছে আজ। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের মে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে—শ্রমিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
১. নতুন ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি’ কাঠামোর ঘোষণা
মে দিবস উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের সুখবর দেওয়া হয়েছে।
-
মজুরি বৃদ্ধি: জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সব খাতের জন্য একটি ‘ভর্তুকিযুক্ত ন্যূনতম মজুরি’ কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে।
-
রেশনিং সুবিধা: স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে চাল, ডাল ও তেল সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থায়ী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২. জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার যেভাবে খর্ব করা হয়েছিল, নতুন সরকারের আমলে তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কলকারখানায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. নিরাপত্তা ও পেনশন স্কিম
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি আইন পাসের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়াও, বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য সর্বজনীন পেনশনের পাশাপাশি বিশেষ একটি ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তা প্রদান করবে।
৪. প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সম্মাননা
এবারের মে দিবসে বিদেশে কর্মরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার।
রক্তঝরা মে দিবসের চেতনা আজ নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, শ্রমের প্রকৃত মর্যাদা এবং শোষণমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক এবারের মে দিবসের শপথ।



















