ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি তাদের জোটসঙ্গীদের ভুলে যায়নি। মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য মোট ৬৩টি আসন খালি রেখে বাকি ২৩৭টি আসনে নিজ দলের প্রার্থীদের প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করেছে দলটি। সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা প্রকাশ করেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সমর্থিত তিনটি জোটের ৩০টি রাজনৈতিক দলের জন্য আসন বণ্টন শুরু করেছে। ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখে নিজ দলের ২৩৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকাভুক্ত আসনগুলোতে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না এবং এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সহ মিত্র দলগুলোর নেতারা লড়তে পারেন। বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছেন, এই তালিকা যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করা হবে।
জোটের কাঠামো ও ফাঁকা আসন
বিএনপি সমর্থিত জোটগুলোতে নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন সহ সাতটি দল নিয়ে গঠিত 'গণতন্ত্র মঞ্চ', বিশ দলীয় জোট ভেঙে গঠিত '১২ দলীয় জোট' এবং 'জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট' সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এই দলগুলোর জন্য বিএনপি ৬৩টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট, সিপিবি সহ ফ্যাসিস্টবিরোধী সব রাজনৈতিক দলই এখন বিএনপির পাশে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো জোটে যাবে কিনা, তা নিশ্চিত করেনি।
মিত্রদের জন্য সংরক্ষিত আসন
বিএনপি যেসব গুরুত্বপূর্ণ মিত্র নেতার জন্য আসন ফাঁকা রেখেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
ঢাকায় সাতটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না যেকোনো একটিতে লড়তে পারেন।
-
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে লড়তে পারেন।
-
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনে লড়তে পারেন।
-
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে লড়তে পারেন।
-
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে লড়তে পারেন।
এছাড়াও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪), দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ঢাকা-১৭), এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট-এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের (ঢাকা-১৩) জন্যও উল্লেখিত আসনগুলো খালি রাখা হয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব
বিএনপি মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে লড়বেন।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আগামী ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিক নির্বাচন পেতে যাচ্ছি এবং এই তালিকা যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করা হবে।