চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভয়াবহ সংঘর্ষে উপ-উপাচার্যসহ বহুজন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, স্থানীয়রা রামদা দিয়ে হামলা চালাচ্ছে, অথচ প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার রাতে দেরি করে বাসায় ফেরা এক ছাত্রীকে বাসার দারোয়ান মারধর করলে ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকেই শুরু হয় ভয়াবহ সংঘর্ষ, যা রাতভর চলার পর রবিবার সকালেও নতুন করে দাঙ্গার রূপ নেয়।
এই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টরসহ বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অনেককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘর্ষে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো ক্যাম্পাসে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় জোবরাবাসীরা শুধুমাত্র রামদা দিয়েই তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা দাবি করেন, “আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, মারামারি করতে নয়। অথচ প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।” ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—তারা সেসময় উপস্থিত ছিলেন না।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেকে বলেন, বন্ধু ও সহপাঠীদের ওপর নির্যাতন চলতে দেখে তারা চুপ থাকতে পারেননি। এর ফলে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রবিবারের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা যখন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তখন এই প্রতিষ্ঠানে কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবো?
রবিবার সকাল থেকে সংঘর্ষ চলতে থাকায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা জোর দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।
এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে কতজন আহত হয়েছেন তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর শিক্ষার্থীদের আস্থা কমে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।