কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়ার প্রান্তে, যেখানে আধুনিকতার অগ্রগতি থেকে গ্রাম্য জীবনের স্পন্দন পর্যন্ত মিশ্রিত এক পরিবেশ বিরাজমান, সেখানকার ইউনিয়ন থেকে শুরু হয় এ গল্প। ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় বহু দিন ধরে ভূমিদস্যু চক্রের প্রধান স্বপন সরদার অবৈধভাবে নদীর মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলায় বিক্রি করে চলেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অঞ্চলে উন্নয়নের পথে অনেক বাঁধা রয়েছে, তবে স্বপন সরদারের অবৈধ কার্যকলাপ যেন কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে চলছে। ক্ষমতাধর বিএনপি নেতাদের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় এই চক্রটি প্রায় কোটি টাকার এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছে, যা সাধারণ মানুষের সামাজিক জীবনে এবং সেই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। সমাজ, কৃষি জমি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি সত্ত্বেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত স্বপন সরদার (পিতা- আলো সর্দার), একজন প্রভাবশালী চরিত্র যিনি কাঠালিয়া উপজেলায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদস্থগিত নেতা মিজাম মীরবহর-এর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এলাকাজুড়ে তার প্রভাব বিস্তার করতে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল-এর নামও ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। এই শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগসূত্রের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না, যে কারণে তাদের নীরবতা প্রশাসকের নীরবতার সঙ্গে মিলেমিশে গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্বপন সরদারের নেতৃত্বাধীন চক্রটি ইতিপূর্বে প্রায় কোটি কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করেছে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক জীবনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনছে। সম্প্রতি, তাদের অবৈধ ব্যবসা আরও জোরদার হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গতকালই স্বপন সরদার চারটি ইটভাটায় আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকার মাটি সরবরাহের নতুন চুক্তি করেছেন, যা তার আরও বৈধতা প্রদান করেছে। এই বেপরোয়া মাটি কাটার ফলে কাঠালিয়া অঞ্চলের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ছে, এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, ভূমিদস্যুদের এই কার্যকলাপে পুরো সমাজই প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মনে এখন গুরুতর প্রশ্ন: "কীভাবে একটি সাধারণ অঞ্চলে এমন ব্যতিক্রমধর্মী অপকর্ম সম্ভব?" সমাজ ও পরিবেশের এমন ক্ষতি সত্ত্বেও প্রশাসন কেন নীরব? জায়গায় জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন চলছে। এমন মুহূর্তে যখন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিমাপ করা কঠিন, তখনও কেউ না কেউ প্রশ্ন তুলছেই।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত এই অবৈধ মাটি ব্যবসা, এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, এবং পরিবেশ ধ্বংসের সামগ্রিক চিত্র তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রশাসন যদি এই বিষয়ে আর কোনো কালক্ষেপণ করে, তাহলে এই অবৈধ ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে এবং কৃষি, বসতভিটা ও পরিবেশের ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে সেটা ক্ষয়ের মুখে গড়াবে, যা একদিন পুরো অঞ্চলটিকে একটি অদৃশ্য আবরণে ঢেকে ফেলবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপকর্মের পৃষ্ঠপোষকতা এবং অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় সাধারণ জনগণের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।