জাতিসংঘে মিত্রদের তোপের মুখে ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধে ‘অস্পষ্ট লক্ষ্যের’ অভিযোগ ফ্রান্স ও জার্মানির..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
তিনি বলেন, “২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরমোজ প্রণালী উন্মুক্ত ছিল; কিন্তু অস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে শুরু করা এই যুদ্ধের ফলে এখন পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে।..

হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংাগতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেই কড়া সমালোচনার শিকার হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানি এই যুদ্ধের কোনো ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই’ বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে।

১. ফ্রান্সের কড়া সমালোচনা: ‘অস্পষ্ট লক্ষ্যের’ যুদ্ধ

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কথা বলেন। তিনি দাবি করেন যে, আমেরিকা ও ইসরায়েল কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা লক্ষ্য ছাড়াই ইরানে সামরিক অপারেশন শুরু করেছে। তিনি বলেন, “২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরমোজ প্রণালী উন্মুক্ত ছিল; কিন্তু অস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে শুরু করা এই যুদ্ধের ফলে এখন পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে।”

২. জার্মানির হুঁশিয়ারি: ‘অপমানিত হচ্ছে আমেরিকা’

এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ইরান বর্তমানে আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘হিউমিলিয়েট’ বা অপমান করছে। তিনি বলেন, “ইরান আমেরিকান প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে ডেকে নিয়ে কোনো ফলাফল ছাড়াই ফিরিয়ে দিচ্ছে। এটি একটি পরাশক্তির জন্য চরম লজ্জাজনক।”

৩. জ্বালানি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ

হরমোজ প্রণালী বর্তমানে আংশিকভাবে অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ডজনখানেক দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে এই সামুদ্রিক রুটটি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী নিশ্চয়তা না দিলে তারা হরমোজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক করবে না।

৪. রাশিয়ার সক্রিয়তা ও নয়া জোটের ইঙ্গিত

ইউরোপীয় মিত্ররা যখন আমেরিকার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন মস্কো ও তেহরান একে অপরের আরও কাছে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধের ফলে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তা রাশিয়া ও চীনের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

৬০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন কেবল ইরান আর আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মিত্রদের এই প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচরণ প্রমাণ করছে যে, ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতি আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে বিশ্ব এক মহাপ্রলয়ংকারী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।

No comments found


News Card Generator