সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতের সঞ্চালন লাইন অত্যন্ত শক্তিশালী। রনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের প্রভাব এখন শুধু ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বাইরে থেকেও শক্তভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম এমনভাবে সংযুক্ত, যেন বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের মতো, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায়। ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশ আসলেই, তা অল্প সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় সব প্রান্তে কার্যকর হয়।
তিনি আরও বলেন, “জামায়াত যে দক্ষতা অর্জন করেছে, তা আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—কল্পনাতেও আনতে পারে না। এই দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তারা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, ফিনান্সিয়াল সিস্টেম গড়ে তুলেছে এবং ডাটাবেইসের সাহায্যে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও পরিবর্তন করতে সক্ষম।
রনি তার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওবার্তায় উল্লেখ করেন, “ভোটের মাঠে জয়লাভের জন্য বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের চিন্তাভাবনা শতাব্দী প্রাচীন। তারা শহীদ জিয়ার বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করলেও মূলত তাদের কৌশল এবং ধ্যানধারণা এখনও পুরনো পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ।”
তিনি আরও তুলনা করে বলেন, “জামায়াত তাদের আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদী ও গোলাম আজমকে হৃদয়ে ধারণ করলেও, প্রযুক্তির দিক থেকে তারা ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, স্টিভ জবস, টিম কুক, জ্যাকমা এবং জেফ বেজোসের মতো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। তারা বিশ্বব্যাপী যে নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, বাংলাদেশেও সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে।
রনি বলেন, “জামায়াত যেখানে প্রয়োজন সেখানে মানুষকে কাজে লাগাচ্ছে। যেখানে প্রযুক্তি বা এআই প্রয়োজন, তারা সঠিকভাবে তা ব্যবহার করছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমরা এই ক্ষমতার প্রমাণ দেখতে পেয়েছি। এখন সব জায়গায় জামায়াতের কার্যক্রম সুনিয়ন্ত্রিত ও বিপ্লবের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
রনি আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো এখনও পুরনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে, কিন্তু জামায়াত আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক নেটওয়ার্ক ও কৌশলের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে।