ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১৫তম দিন: মার্কিন বাহিনীর দিশেহারা অবস্থা ও ইরানের তীব্র পাল্টা আঘাত..

আব্দুল্লাহ আল মামুন avatar   
আব্দুল্লাহ আল মামুন
আমেরিকার অভিযোগ, এই নেতারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করছেন। তবে এর জবাবে ইরানি নেতা আলী লারিজানি জানিয়েছেন যে, তাদের নেতারা জনগণের মাঝেই আছেন এবং তারা কোনো হুমকিতে ভীত নন।..

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত আজ ১৫তম দিনে পদার্পণ করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বিজয়ের দাবি করলেও, ইরানের সীমিত সামরিক শক্তি দিয়ে চালানো অভাবনীয় পাল্টা আক্রমণ ওয়াশিংটনকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোস্তফা খামেনি এবং আইআরজিসি-র ১০ জন শীর্ষ কমান্ডারের ওপর ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আমেরিকার অভিযোগ, এই নেতারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করছেন। তবে এর জবাবে ইরানি নেতা আলী লারিজানি জানিয়েছেন যে, তাদের নেতারা জনগণের মাঝেই আছেন এবং তারা কোনো হুমকিতে ভীত নন।

ফাইনান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে আমেরিকার অত্যাধুনিক রাডার স্টেশন, পোর্ট এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালাচ্ছে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ইরানের এই কার্যকর সামরিক আক্রমণ আমেরিকাকে বিস্মিত করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আমেরিকা প্রায় ১০,০০০ ইন্টারসেপ্টর ড্রোন মোতায়েন করেছে যাতে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকানো যায়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে আমেরিকার ৭টি বড় বিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি রিফুয়েলিং বিমান সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে পার্ক করা অবস্থায় ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান ধ্বংস হয়ে গেলেও, ইরান আজই ইসরায়েলের ওপর ৪৭তম দফার মিসাইল হামলা চালিয়েছে এবং তাদের সুড়ঙ্গ পথে থাকা বিশাল অস্ত্রাগারের ভিডিও প্রকাশ করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সবচেয়ে বড় তেল রফতানি কেন্দ্র ‘খাগ আইল্যান্ড’-এ ভারী বোমা হামলার দাবি করেছেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমোজ প্রণালীতে বাধা দেয়, তবে তাদের সম্পূর্ণ তেল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। জবাবে আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজন দেশে থাকা সকল মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

পেন্টাগন ইতিমধ্যেই ২,৫০০ মেরিন কমান্ডো এবং ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নামক বিশাল যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে যে জাপান থেকে আমেরিকার শক্তিশালী ‘সেভেন্থ ফ্লিট’ বা সপ্তম নৌবহরও এই রণক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি স্থল যুদ্ধে (Boots on the Ground) নামা আমেরিকার জন্য আফগানিস্তান বা ভিয়েতনামের চেয়েও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

No comments found


News Card Generator