ইপিজেডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-শ্রমিক সংঘর্ষ, নিহত ১ গুলিবিদ্ধ ৬..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইপিজেডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-শ্রমিক সংঘর্ষ, নিহত ১ গুলিবিদ্ধ ৬..
ইপিজেডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-শ্রমিক সংঘর্ষ, নিহত ১ গুলিবিদ্ধ ৬..
A violent clash erupted at Uttara EPZ in Nilphamari between law enforcement and protesting workers. One worker was killed and at least six others were shot and injured during the confrontation.

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিকদের আন্দোলন রক্তক্ষয়ী রূপ নিল। সেনা-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অন্তত ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নীলফামারীর উত্তরা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (ইপিজেড) মঙ্গলবার সকালে শ্রমিক আন্দোলন ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অন্তত ছয়জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আজ ২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ইপিজেড ঘিরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এভারগ্রিন পরচুলা তৈরির কারখানার শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। কিন্তু সোমবার রাতে কোনো সমাধান ছাড়াই কর্তৃপক্ষ হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে দিলে শ্রমিকদের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।

মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইপিজেডের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করে। তারা এক পর্যায়ে ইপিজেডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা সেনাদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে হাবিব নামের এক শ্রমিককে নীলফামারী সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাবিবুর রহমান সদর থানার সংরশি ইউনিয়নের কাজিরহাট গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। বাকি পাঁচজন আহত শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারহান তানভীর উল ইসলাম।

এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় আরও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৫৬ বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম বদরুদ্দোজা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তার দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করলেও তাদের উপর অপ্রত্যাশিতভাবে গুলি চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, শ্রমিকদের আগ্রাসী আচরণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তাই গুলি চালানো ছাড়া উপায় ছিল না।

এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো নীলফামারী অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

Walang nakitang komento


News Card Generator