জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে পূর্বঘোষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম একটি পদযাত্রায় অংশ নেন। পরে তারা টাউন হলের সামনে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী,সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতাদের উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
হামলার জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম বলেন,শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি দাবি করেন,হামলায় তাদের এক কর্মীর চোখে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং আরেকজনের মুখে গুরুতর জখম হয়েছে। এছাড়া এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন,বাহুবল উপজেলা সংগঠক নোবীর হোসেন হৃদয়সহ প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সারজিস আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়িও ভাঙচুর করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,পথসভায় নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বক্তব্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি হবিগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এমডি জি কে গউছের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,এনসিপির নেতারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন সম্পর্কে "অপমানজনক মন্তব্য" করায় সামান্য বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছিল।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের থানা মোড় এলাকায় এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম শহরের সোনালী ব্যাংকের একটি শাখার ভেতরে আশ্রয় নেন।
এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন,এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না। তার দাবি,"অশালীন বক্তব্যে" ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এনসিপি নেতাদের ধাওয়া করেছিলেন।
তিনি বলেন,"হবিগঞ্জ শহরে এসে কেউ যদি অশালীন বক্তব্য দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চান, তবে তার দায় তাকেই নিতে হবে। আজ একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। এতে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা ছিল না।"
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।