হাসপাতালের ময়লার গাড়িতে পাচার হচ্ছে সরকারি ওষুধ! বছরে ১২০০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
হাসপাতালের ময়লার গাড়িতে পাচার হচ্ছে সরকারি ওষুধ! বছরে ১২০০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ..
হাসপাতালের ময়লার গাড়িতে পাচার হচ্ছে সরকারি ওষুধ! বছরে ১২০০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ..
****

 

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি 

 

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে “ওষুধ নেই” — এই কথা যেন এখন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। রোগীদের বলা হয় বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে। অথচ সরকার প্রতিবছর জনগণের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার ওষুধ বরাদ্দ দেয়। তাহলে সেই ওষুধ কোথায় যাচ্ছে — এ প্রশ্ন এখন জনমনে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সরকারি ওষুধ কালোবাজারে পাচার হচ্ছে। হাসপাতালের স্টোরকিপার, ওয়ার্ড বয়, দালাল চক্রসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই ভয়াবহ দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

 

প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার ওষুধ পাচার!

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেশের ৫২২টি সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে বাইরে পাচার হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে লুটপাটের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২০০ কোটি টাকারও বেশি।

 

ময়লার গাড়িতে পাচারের চাঞ্চল্যকর কৌশল

 

দুর্নীতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায়। অভিযোগ রয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরার নজর এড়াতে হাসপাতালের ময়লার গাড়ি বা ভ্যানে বস্তাভর্তি করে সরকারি ওষুধ পাচার করা হচ্ছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এমন একটি ঘটনা ধরা পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালে লেডিস ব্যাগ, পকেট কিংবা ছোট ছোট প্যাকেটে করেও নিয়মিত ওষুধ বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়েও সম্প্রতি এমন তথ্য সামনে এসেছে।

 

ম্যানুয়াল খাতার সুযোগে ভুয়া রোগীর নামে ওষুধ উধাও

 

এখনও অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কাগজ-কলম নির্ভর হওয়ায় সহজেই জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া রোগীর নাম দেখিয়ে কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ দেখিয়ে দামি অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন ও গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ খাতা থেকে গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে।

 

কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে সরকারি সিলযুক্ত ওষুধ

 

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি সিলযুক্ত এসব ওষুধ রাতের আঁধারে ঢাকার মিটফোর্ডসহ বিভিন্ন স্থানীয় ফার্মেসি ও কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে। ফলে একদিকে সরকার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে গরিব রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

“এটি শুধু চুরি নয়, প্রাতিষ্ঠানিক গণহত্যা”

 

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এটি শুধু দুর্নীতি বা চুরি নয়; এটি এক ধরনের “প্রাতিষ্ঠানিক গণহত্যা”। কারণ দরিদ্র রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন, অনেকেই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

 

সচেতন মহল মনে করছে, শুধুমাত্র বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত নয়, এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

 

জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন — জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ চুরি করে যারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

No comments found


News Card Generator