গণভোট ও বিভেদের রাজনীতি: নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি'র মধ্যে 'অসমিলিত' বিভাজন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
গণভোট ও বিভেদের রাজনীতি: নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি'র মধ্যে 'অসমিলিত' বিভাজন..
গণভোট ও বিভেদের রাজনীতি: নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি'র মধ্যে 'অসমিলিত' বিভাজন..
সীমাবদ্ধতা: জামায়াতের রাজনৈতিক পরিসর সীমিত এবং তাদের মূল কাঠামো এখনো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর দাঁড়িয়ে। উপরের কয়েকজন নেতা ছাড়া নিচের স্তরের নেতারা জনগণের কাছে পরিচিত নন।..

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি'র (NCP) মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদের রেখা তত স্পষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে দলগুলো যেন তিন দিকে হাঁটছে এবং জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে তারা কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এই হজবরল অবস্থায় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে জনমনে চূড়ান্ত রূপে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে শুদ্ধতা খুঁজছে জনগণ। এই অবসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটাররা দলগুলোকে এখন চারটি মাপকাঠি দিয়ে বিচার করছে: দলটি কতটা সুশৃঙ্খল, নেতিবাচক কার্যকলাপ থেকে দলটি কতটা বেরিয়ে এসেছে, দলের ভেতরে বহুত্ববাদ আছে কিনা এবং দেশ পরিচালনার বাস্তব সক্ষমতা কতটা। এই চারটি মাপকাঠির ভিত্তিতেই বিএনপি ও জামায়াতকে বিচার করা হচ্ছে, যেখানে এনসিপি এখনো রাজনৈতিক পরীক্ষাগারে 'সাইড ক্যারেক্টার' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপি: অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু শুদ্ধতা কম

বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি 'বড় ব্র্যান্ড' এবং সমাজের অনেক স্তরকে (গ্রামের কৃষক, শহরের ব্যবসায়ী, মধ্যবিত্ত) একসঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করে, যা তাদের মূল শক্তি। দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও তাদের আছে এবং ভোটাররা তা জানেন, যা শেষ মুহূর্তে বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

  • দুর্বলতা: এত বছরের রাজনীতি বিএনপির শরীরে অনেক 'ঘা' রেখে গেছে। দলটি যখনই উঠে দাঁড়াতে চায়, তখনই দুর্নীতির পুরনো কাহিনী, চাঁদাবাজির গন্ধ এবং গোষ্ঠী কোন্দলের শব্দ ভেসে আসে। প্রার্থীর তালিকা নির্ধারণে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা এবং দলীয় সংগঠন ছড়িয়ে থাকা তাদের জন্য বড় দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • জুলাই সনদ বিতর্ক: বিএনপি অভিযোগ করেছে, ঐক্যমত্য কমিশন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সনদ স্বাক্ষরের সময় এক জিনিস দেখিয়ে পরে অন্য একটি বিষয় (গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংযুক্তি) প্রকাশ করা হয়েছে, যা সিনেমার মতো চালাকি করে জমি লিখে নেওয়ার মতো।

জামায়াত: সুশৃঙ্খল, কিন্তু সীমিত পরিসর

জামায়াতে ইসলামী তাদের সংগঠনে শৃঙ্খলিত এবং নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করে। দলটি দুর্নীতিমুক্ত থাকার একটি তুলনামূলক ইমেজ গড়ে তুলতে পেরেছে। তাদের এই শৃঙ্খলাকেই জনগণ এখন ইতিবাচক চোখে দেখছে। দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান তুলনামূলকভাবে আধুনিক চিন্তার মানুষ এবং তিনি সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সম্পর্কের চেষ্টা করেছেন, যা জনগণের মধ্যে নতুন ধারণা তৈরি করেছে।

  • সীমাবদ্ধতা: জামায়াতের রাজনৈতিক পরিসর সীমিত এবং তাদের মূল কাঠামো এখনো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর দাঁড়িয়ে। উপরের কয়েকজন নেতা ছাড়া নিচের স্তরের নেতারা জনগণের কাছে পরিচিত নন।

  • ইমেজ: বিএনপি ও এনসিপি'র তুলনায় তাদের কম কেলেঙ্কারি হওয়াটাই এখন জামায়াতের বড় ইমেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনসিপি: চাপের রাজনীতিতে অপরিণত

এনসিপি-র উত্থান হঠাৎ হলেও তাদের দৌড় এখনো অস্পষ্ট। তাদের অবস্থান অনেকটা 'আমরা না মানলে কিছুই হবে না' ধরনের চাপের রাজনীতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি এখনো অপরিণত; কারণ মানুষ ভাবতেই পারছে না যে ২৫-৩০ বছরের একটি ছেলে প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত ব্যতিক্রমী একটি দেশ চালাতে পারবে। এই 'চাপের রাজনীতি' জনগণের চোখে নেতিবাচক দেখাচ্ছে।

দেশের মানুষ এখন আর রাজনীতিতে বক্তৃতা, হুংকার বা ফেসবুক পোস্ট দেখতে চায় না; তারা চায় কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং সুশাসন। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

No comments found


News Card Generator