মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
আসন্ন ১নং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি হলো আলহাজ্ব মোহাম্মদ জুয়েল সরকার। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি ইতোমধ্যেই ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ১নং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ফুলবাড়ীয়া উত্তরপাড়া গ্রামের একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে ১৯৬৯ সালের ১০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ জুয়েল সরকার। তাঁর পিতা মরহুম তজিম উদ্দিন সরকার ছিলেন ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের একজন সফল চেয়ারম্যান। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাতা মোসাম্মৎ সেতারা বেগম।
শিক্ষাজীবনে জুয়েল সরকার ১৯৮৬ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে কালিয়াকৈর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে পড়াশোনা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ছাত্রজীবনে কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি একাধিকবার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জুয়েল সরকার বিএনপির দুঃসময়ে মাঠে থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপির একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ২০০৩ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় মাত্র ২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরবর্তীতে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলের অন্য প্রার্থীকে বিজয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর ব্যাপক সম্পৃক্ততা। তিনি হাবেজ উদ্দিন সরকার কলেজ ও সালদপাড়া মোল্লা হোসাইন দাখিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য। বিভিন্ন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা লায়ন্স ক্লাবের সদস্য হিসেবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি জলাভূমি ব্যবস্থাপনা কল্যাণ সংস্থার সাবেক সভাপতি, ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কাচিঘাটা রেঞ্জের আওতাধীন সামাজিক বনায়ন উপকারভোগীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১৯ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সম্মাননা লাভ করেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন এবং সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জুয়েল সরকার বলেন, “আমি সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, তাহলে একটি আধুনিক, সুশাসনভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে চেয়ারম্যান পদে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ জুয়েল সরকার।