নিউজ রিপোর্ট: (ইসমাইল হোসেন)
ফেসবুক মনিটাইজেশনের নেশায় ব্যক্তিত্ব হারাচ্ছেন অনেকেই! 🫡
বর্তমান সময়ে ফেসবুক শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, আয়ের অন্যতম বড় একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ভিডিও কনটেন্ট, শর্টস, রিলস এবং লাইভের মাধ্যমে হাজারো তরুণ-তরুণী মনিটাইজেশনের স্বপ্নে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু এই আয়ের মোহে অনেকেই হারাচ্ছেন নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও স্বাভাবিক জীবনধারা।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী পর্যন্ত অনেকেই ফেসবুক আয়ের স্বপ্নে পড়াশোনা, কর্মজীবন এমনকি পরিবারকেও অবহেলা করছেন। কেউ কেউ কেবল ভিউ বাড়ানোর আশায় নিম্নমানের, বিতর্কিত এমনকি অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করছেন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা ও সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন—
"আয় হোক, সমস্যা নেই। কিন্তু এই আয়ের নেশায় যখন একজন মানুষ তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্ব হারাতে শুরু করে, তখন সেটা সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।"
মনিটাইজেশনের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকেই নিজেদের জীবনযাত্রায় ভারসাম্য রাখতে পারছেন না। রাত জেগে লাইভ, অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও কনটেন্ট, কিংবা ভুয়া নাটক-সিন তৈরি করে মানুষকে হাসানোর চেষ্টা যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যারা মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করছেন, তারা যেমন ভালো আয় করছেন, তেমনি নিজের প্রতিভা দিয়ে সমাজকেও বিনোদন ও শিক্ষা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফেসবুক মনিটাইজেশনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে সঠিকভাবে—যাতে ব্যক্তিত্ব ক্ষয় না হয়ে বরং জ্ঞান, দক্ষতা ও ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।