দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং পরবর্তী ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেও সাংবাদিক মাসুদ কামাল কেন গ্রেপ্তার হননি এই প্রশ্নটি এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি নিজেই অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকার কাউকে এমনিতেই ধরে না বা হয়রানি করে না; বরং হয়রানির জন্য তাদের একটি ‘অজুহাত’ লাগে। নিজেকে ‘জনগণের দালাল’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যে, সাংবাদিকতা করে তিনি ‘এক পয়সা’ও কারো কাছ থেকে নেননি, তাই তাকে ধরার মতো কোনো অজুহাত সরকারের হাতে নেই।
সাংবাদিক মাসুদ কামাল তার বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি মজার উপমা ব্যবহার করেন নেকড়ে ও মেষশাবকের গল্প।
-
অজুহাত লাগে: তার মতে, সরকার চাইলেই যেকোনো সাংবাদিককে হয়তো দমন করতে পারে, কিন্তু দমন করার জন্য তাদের একটি ‘অজুহাত’ লাগে। নেকড়ে যেমন মেষশাবককে এমনিতেই খেতে পারত, কিন্তু সে একটি মিথ্যা অভিযোগ (যেমন—জল ঘোলা করার অভিযোগ) তৈরি করেছিল। সরকারও তেমনি:
"নেকরে এবং মেশাবকের গল্প শুনছেন? সেখানে মেশাকে নেকরে এমনি খেয়ে ফেলাইতে পারে। তাহলে ওটা বলে কেন যে তুই আমার জল ঘোড়া করছিস কেন? তুই কর তোর বাপ করছে তোর দাদা করছে—এটা আলে কেন? খাওয়ার জন্য তার একটা অজুহাত লাগে।"
-
আর্থিক স্বচ্ছতা: এই অজুহাত তৈরি করার মূল জায়গা হলো সাংবাদিকদের আর্থিক দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতা। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ৩৬ বছর ধরে সাংবাদিকতা করে তিনি কারো কাছ থেকে এক পয়সা নেননি। তিনি সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন এবং তার কোনো বিলাসিতা (যেমন—গাড়ি, মদ, জুয়া) নেই, যা অনেক টাকার উৎস দাবি করে।
"আমাকে কি মরে প্রমাণ করতে হবে এই যে আমি বিএনপি বিরোধী আওয়ামী লীগ বিরোধী অথবা সরকার বিরোধী [সাংবাদিকতা করি]... সবগুলি ব্যাংক একাউন্ট যে চান আমাকে বলেন, আমি একাউন্ট নাম্বার দিয়ে দেই... আমাকে যে আপনি ধরবেন, একটা অজুহাত তো লাগবে।"
-
প্রমাণ হিসেবে উদাহরণ: তিনি উদাহরণ দেন যে, কোভিড-১৯ এর সময় স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ধারাবাহিক রিপোর্ট শুরু হওয়ার পর পীর হাবিবুর রহমান ও নঈম নিজামের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করা হয়েছিল। এই তলবের পরই রিপোর্ট লেখা বন্ধ হয়ে যায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এমন কিছু ছিল যা তাদের থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তার (মাসুদ কামালের) ক্ষেত্রে সেই দুর্বলতার জায়গাটি নেই।
মাসুদ কামাল মনে করেন, সরকার বা ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করার পরেও তিনি নিরাপদ, কারণ তার সমালোচনা সৎ।
-
সমালোচনা = উপকার: তিনি সরাসরি বলেন যে, সরকারের সমালোচনা করা মানে সরকারের ক্ষতি করা নয়, বরং সরকারের উপকার করা।
"উনারা চামচারা মনে করে যে আমি সরকারের ক্ষতি করতেছি। সমালোচনা করা ক্ষতি করা নয়। সমালোচনা করা সরকারের উপকার করা।"
-
ড. ইউনূসের প্রতি আস্থা: তিনি বিশ্বাস করেন যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও তার সমালোচনায় খুশি। কেননা ড. ইউনূস শুরুতে বলেছিলেন, "প্রাণ খুলে আমাদের সমালোচনা করেন।"
মাসুদ কামাল বিএনপির, আওয়ামী লীগের কিংবা জামায়াতের কোনো সমালোচক নন, বরং তিনি নিজেকে একটি ‘দালাল’ হিসেবে ঘোষণা করেন তবে সে দালাল হলো জনগণের দালাল।
"আমি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করি, আমি জামাতের সমালোচনা করি, আমি বিএনপির সমালোচনা করি... আমি জনগণের দালাল, এটা আমি বুক ফুঁড়িয়ে বলতে পারি।"
তিনি চ্যালেঞ্জ করেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কোনো নিউজ ছাপানোর জন্য বা বন্ধ করার জন্য কারো কাছ থেকে পাঁচ টাকাও নিয়েছেন, তবে তিনি প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে প্রস্তুত। এই দাবিটি তার নৈতিক ও আর্থিক স্বচ্ছতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে সামনে আনেন।