‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে পদযাত্রা শুরুর আগে ঢাকা কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষকরা এক শিক্ষার্থীকে আটক করলে সহপাঠীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে তাকে মুক্ত করে নেয়।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ঢাকা কলেজে সোমবার সকালে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। জানা গেছে, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষকদের সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকা কলেজের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ রেজা ক্ষোভের এক পর্যায়ে শিক্ষকদের উদ্দেশে ‘দালাল’ মন্তব্য করেন। এতে শিক্ষকদের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ফরহাদকে ধরে শিক্ষক কমনরুমে নিয়ে আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক শিক্ষার্থী কলেজ প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে সহপাঠীকে মুক্ত করার দাবি জানায়। একপর্যায়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করে ফরহাদ রেজাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে।
ঘটনাটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে বেলা ১১টার মধ্যে ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর কিছু সময় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কলেজ প্রশাসন জানায়, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত আছে এবং কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
একই সময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নীলক্ষেত মোড় হয়ে শিক্ষা ভবন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়, রাখা হয় জলকামান ও সাঁজোয়া যানও।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ বাস্তবায়নে সরকার কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ দেখাতে পারছে না। ফলে তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আর কোনো বিলম্ব চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো যেমনই হোক, আমাদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত অধ্যাদেশ দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর নাম প্রস্তাব করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। সংশ্লিষ্ট সাত কলেজ হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজ।
আজকের পদযাত্রার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ অধ্যাদেশ জারির জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যদিও ঘটনার পর শিক্ষক–শিক্ষার্থী উভয়পক্ষই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, তবে আন্দোলনের উত্তাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি বলে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে।