ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ থেকে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের এক বিশাল গণজমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ একত্রিত হন। তাদের প্রধান দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রধান আবাসিক হল—'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল' এবং 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল'-এর নাম পরিবর্তন করা। শিক্ষার্থীরা এই নামগুলোর পরিবর্তে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' এবং 'বীর প্রতীক সেতারা বেগম' নাম প্রস্তাব করেছেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, একটি স্বাধীন ও স্বৈরাচারমুক্ত ক্যাম্পাসে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিবারের চিহ্ন থাকা কাম্য নয়। আন্দোলনের সম্মুখভাগে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা ন্যায়ের পক্ষে এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাই বিগত সরকারের আমলের বিতর্কিত নামগুলো মুছে ফেলে প্রকৃত বীরদের নামে হলের নামকরণ হওয়া উচিত। বিক্ষোভ চলাকালে প্রশাসনিক ভবন এলাকা ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা, ঢাবিতে থাকবে না’ এবং ‘মুজিববাদ নিপাত যাক’—এমন উত্তাল স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সমর্থনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিচার। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, অনেক শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সরাসরি গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের তার বক্তব্যে বলেন, ক্যাম্পাসে স্বৈরাচারের কোনো আইকন রাখা হবে না এবং যারা হত্যার রাজনীতিতে সহায়তা করেছে তাদেরও বিচার হতে হবে। এই কর্মসূচি প্রশাসনের ওপর একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে এবং উপাচার্যের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।