ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ডাকসু নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি বা ভণ্ডুলের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপি সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সভায় ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সব নির্দেশনা আমরা সর্বাত্মকভাবে অনুসরণ করব। যারা নির্বাচনকে ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। আমরা সবাই যদি একসাথে কাজ করি, তবে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।”
সভায় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) হাসান মো. শওকত আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ, ডাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানান কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ভোটারদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—ডাকসু নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান, যেন সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করে এই নির্বাচনকে সফল করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডাকসু নির্বাচন শুধু একটি ছাত্রসংসদের ভোট নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের আন্তরিকতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতীক হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচন সবসময়েই ছাত্ররাজনীতির একটি মাইলফলক। দীর্ঘ সময় পর এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উৎসাহ ও কৌতূহল প্রবল। তবে নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটানো বা বিভ্রান্তি ছড়ানো রোধে সাইবার টিমও সক্রিয় থাকবে। একইসাথে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কৌশলগতভাবে সাজানো হবে যাতে ভোটের দিন শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে।
সবশেষে কমিশনার বলেন, “ডাকসু নির্বাচন যেন দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে ওঠে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”