চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিম দিঘলদী গ্রামে গত ৩১ মে গাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সুমন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা ৩৪ বছর বয়সী সুমন পাটোয়ারীকে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৪ জুন ঢাকার হাজারীবাগ থানার ঝিগাতলা এলাকা থেকে আটক করা হয়। আরব আলী পাটোয়ারীর ছেলে সুমন পাটোয়ারী ঘটনার পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন। গত ৩১ মে আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর সঙ্গে সুমনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সুমন পাটোয়ারী ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন। মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে নয়ন পাটোয়ারী জানান, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়, যার ফলে তার বাবা প্রাণ হারান। এই ঘটনায় ৩ জুন মতলব দক্ষিণ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই এজাহারভুক্ত দুই আসামি অজুফা বেগম ও ফারজানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও মূল হোতা সুমন পাটোয়ারী কৌশলে এলাকা ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তিনি নিয়মিত তার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবার এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি দাবি করছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, সুমন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয় এবং পরবর্তীতে সোমবার চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএমপির হাজারীবাগ থানা পুলিশের সহায়তায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং পলাতক থাকা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই গ্রেপ্তারটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা নিহতের পরিবারের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে একজন সাধারণ নাগরিকের তুচ্ছ কারণে প্রাণ হারানো ও অপরাধীর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা বিচার ব্যবস্থার ধীরগতির দিকেই ইঙ্গিত দেয়। সুমন পাটোয়ারীর গ্রেপ্তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন মামলার পরবর্তী মোড় নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে ও সামাজিক বিবাদ নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পারিবারিক বিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অপরাধী যেই হোক না কেন, তার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।