সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষে বলা হয়, শ্রুতি পালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চান তারা। তবে বিচার যেন তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হয় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেলে কলেজ ছাত্রী শ্রুতি তার বন্ধু তানভীর হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও রিসবী সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে ফেনী থেকে মিরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উত্তর ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে তানভীর ও শ্রুতিদের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে আসা দ্রুত গতির একটি অজ্ঞাত ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে শ্রুতি গুরুতর আহত হন এবং তানভীরও আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শ্রুতির শারীরিক চিকিৎসার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেকে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রুতিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় হাসপাতালে তানভীরের আচরণ ও বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচলাইশ থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ তানভীর ও আশরাফকে হেফাজতে নেয় এবং শ্রুতির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় গত ৯ জুন মিরসরাই থানায় তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন শ্রুতির বাবা টিটু পাল। নিহত শ্রুতি পাল (২০) ফেনী টিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিএড দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও হোমিও চিকিৎসক টিটু পালের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকায়। প্রবাসী তানভীর হোসেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের উত্তর বৈতিয়ারা এলাকার মৌলভী বাড়ির মৃত এবাদত হোসেনের ছেলে। আশরাফ উদ্দিন প্রবাসী তানভীর হোসেনের বন্ধু।
তানভীরের বড় বোন নাবিলা আক্তার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রেখে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।