চাঁদপুর পুরান বাজারের রঘুনাথপুর এলাকায় ডব্লিউ রহমান জুট মিলের সম্মুখে অবস্থিত পৌরসভা পরিচালিত পাবলিক টয়লেটটি বর্তমানে জনদুর্ভোগের এক চরম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই স্থাপনাটি এখন ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী, সিএনজি চালক, শ্রমিক ও পথচারী যাতায়াত করেন, যাদের দৈনন্দিন প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য একমাত্র ভরসা ছিল এই পাবলিক টয়লেটটি। কিন্তু বর্তমানে টয়লেটের ভেতরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, ভাঙাচোরা দেয়াল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এটিকে একটি স্বাস্থ্যঝুঁকির উৎসে রূপান্তরিত করেছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রটি এখন নিজেই একটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার অভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, টয়লেটের ভেতরে পানির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেখানে দুর্গন্ধের কারণে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সিএনজি চালক বিল্লাল মিয়ার মতে, দীর্ঘ সময় রাস্তায় গাড়ি চালানোর পর বাধ্য হয়েই এই টয়লেট ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু ভেতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ একজন মানুষের জন্য চরম লজ্জাজনক ও কষ্টদায়ক। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য এই টয়লেটটি ব্যবহারের পরিবেশ নেই বললেই চলে, যা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজির পাটোয়ারী জানান, ব্যস্ততম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এই টয়লেটের বেহাল দশা নিয়ে বহুবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নাগরিক হিসেবে সাধারণ মানুষ যে মৌলিক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি যেন দেখার কেউ নেই।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
নাগরিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় নাগরিক ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। পৌরসভা করের টাকায় পরিচালিত এই ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু অভিযোগ শোনার বা প্রতিকারের ব্যবস্থা না থাকা পৌর প্রশাসনের জবাবদিহিতার জায়গাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। এই বাস্তবতায়, কর্তৃপক্ষের নীরবতা শুধু নাগরিক সেবার অভাবকেই নির্দেশ করে না, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের প্রতি এক ধরনের চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ, যা দ্রুত সংশোধন করা আবশ্যক।
পরিশেষে, অবিলম্বে টয়লেটটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। এই ধরনের মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে পৌর প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণই নয়, বরং তার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে নাগরিক ভোগান্তি নিরসন করা অসম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে এই অব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যার দায়ভার পৌর প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।