close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সফলতার কথা তুলে ধরলেন ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলা ফিল্ড অর্গানাইজার পার্থ দাস।..

Partha Das avatar   
Partha Das
****

ব্র্যাক ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর স্যার ফজলে হাসান আবেদ কর্তৃক একটি ছোট ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে শুধু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দেওয়া হলেও, পরে সংস্থাটি দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং মানবাধিকারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। ব্র্যাকের এই যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হলেও বর্তমানে এটি এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার ১৩টি দেশে বিস্তৃত। 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সাল থেকে অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে, যা মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বিদেশে যাওয়া ও ফিরে আসা অভিবাসীদের পুনর্বাসনের উপর জোর দেয়। এই যাত্রা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সহায়তা প্রদান, বিশেষায়িত ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে কর্মীদের জন্য টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে ব্র্যাক প্রবাসবন্ধু লিমিটেড (বিপিএল) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হয়েছে। 

প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য: ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল নিরাপদ অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য।

বিমানবন্দরে সহায়তা: বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং: বিদেশ ফেরত কর্মীদের অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের জন্য বিশেষায়িত ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেবা চালু করা হয়েছে, যা ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলার ব্র্যাক মাইগ্রেশন এন্ড রিইন্টিগ্রেশন সেন্টার থেকে দেওয়া হয়।

টেকসই জীবিকা: ২০১৭ সালে ব্র্যাক প্রবাসবন্ধু লিমিটেড (বিপিএল) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত অভিবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই জীবিকা অর্জনে সহায়তা করা হয়।

স্কুল প্রোগ্রাম: নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় স্কুলগুলোতে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ: সরকার ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে নীতি নির্ধারণী সংক্রান্ত কাজেও এই প্রোগ্রাম অংশ নেয়।

গণমাধ্যমকে স্বীকৃতি: ২০১৫ সাল থেকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালু করে অভিবাসন খাতে সাংবাদিকতার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অন্তগত রিইন্টিগ্রেশন অফ মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ-১১৩৭ প্রজেক্ট এর ফরিদপুর এমআরএসসি আওতায়ধীন ৪টি উপজেলা কার্যক্রম চলছে, মধুখালী, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলা। ভাঙ্গা উপজেলা ফিল্ড অর্গানাইজার পার্থ দাস জানান, আমার ভাঙ্গা উপজেলাধীন ৬টি ইউনিয়নে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ইউনিয়ন সমূহ হলো: তুজারপুর, কাউলিবেড়া, নাছিরাবাদ, চুমুরদী, হামিরদী, মানিকদহ ইউনিয়ন এই ৬টি ইউনিয়ন। আমার কর্মএলাকায় প্রতি ইউনিয়নে ২জন করে মোট ১২জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মী আছে। স্বেচ্ছাসেবকগন তারা প্রতিটা ওয়ার্ডে প্রতিটা গ্রামে আমাদের প্রোগ্রাম সম্পর্কে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে উঠান বৈঠক এর মাধ্যম। 

ফিল্ড অর্গানাইজার পার্থ দাস আরোও জানান, আমরা টি-স্টল মিটিং, স্কুল প্রোগ্রাম, ইউনিয়ন কর্মশালা ও উপজেলা কর্মশালা মাধ্যম দিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। বিদেশ ফেরত তালিকা করা হয়। তালিকা যাচাই-বাছাই করে তাদের কাগজপত্র চেক করে তাদেরকে সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে কাউন্সিলিং সেবার মাধ্যম দিয়ে উদ্যোক্তা উন্নয়ন আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষন দিয়ে থাকি।

ভাঙ্গা উপজেলা ফিল্ড অর্গানাইজার পার্থ দাস তিনি তার অর্জনের কথা জানান, তিনি ২০২৩ সালে ১৩ই আগস্টে জয়েন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে। জয়েনিং পর থেকে তিনি গাইড লাইন অনুযায়ী সকল কাজ করে আসছে। ভাঙ্গা উপজেলা ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারে এই যাবতকাল তিনি প্রতিবছর টার্গেট অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১৫০টি টি-স্টল মিটিং, ১৯টি স্কুল প্রোগ্রাম, ৬টি ইউনিয়ন কর্মশালা, ১টি উপজেলা কর্মশালা, ১৪৩৫টি উঠান বৈঠক, ৭২৯টি বিদেশ ফেরত তালিকা চিহ্নিতকরণ তার মধ্যে দিয়ে ২১৭টি প্রোফাইলিং, ১৪৫জনকে কাউন্সিলিং সেবা, ১১৩জনকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পার্থ দাস আরোও জানান, তিনি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রত্যাশা প্রকল্পের প্যারা কাউন্সেলর ছিলেন ২০১৭ সাল হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত। তিনি দক্ষতার সাথে কাজ করতেন জনকল্যাণের জন্য। দক্ষতা ও সততার পুরস্কারও পান খুলনা জেলা থেকে। খুলনা জেলার মধ্যে ১০৮জন ভলান্টিয়ারের মধ্যে দিয়ে শ্রেষ্ট ভলান্টিয়ার হিসাবে নির্বাচন হয়েছিলেন।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: বিদেশ ফেরত অভিবাসীদেরকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন সামগ্রিক সহায়তা প্রদান করা। বিদেশ ফেরত অভিবাসীদেরকে তাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের মূলধারার সাথে পুনরেকত্রীকরণ হওয়ার সহায়তা প্রদান করা।

Partha Das
Partha Das 3 hours ago
অসাধারণ
1 0 Reply
Show more


News Card Generator