বরগুনা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয়কে কেন্দ্র করে জেলায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক নেতা–কর্মী দাবি করেন, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় পলাতক আওয়ামী লীগের অনেক নেতা–কর্মী স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী ঘরানোর ভোটের একটি অংশ কৌশলগতভাবে হাতপাখা প্রতীকের দিকে যাওয়ায় ফলাফলে বড় প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কয়েকজন সিনিয়র নেতা অভিযোগ করেন, তফসিল ঘোষণার পর তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত থাকলেও ভোটের দিন প্রত্যাশিত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
ভোটকেন্দ্রভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক হিসাব বিশ্লেষণ করে কয়েকজন স্থানীয় পর্যবেক্ষক জানান, আওয়ামী লীগ–সমর্থিত এলাকাগুলোতে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পেয়েছেন—যা জয়–পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয়ের পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দলবদ্ধভাবে বরগুনা বাজার এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন আওয়ামী ঘরানার নেতাকর্মীরা— প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সেখানে বাংলাদেশ যুবলীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর কয়েকজন নেতাকর্মীকেও দেখা গেছে। খবর পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরাও মাঠে নামলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দ্রুত সরে যায়।
ঘটনার পর বরগুনা শহরে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়। বরগুনা সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বিভিন্ন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, বরগুনা জেলা শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি সবুজ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শনিবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে বরগুনা শহরের পিটিআই এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।



















