বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামে গত সপ্তাহে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের একমাত্র সন্তান বেলাল ওই এলাকার একটি ব্রিজ থেকে খালে লাফিয়ে পড়ে। পানিতে পড়ার পরপরই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকদের ধারণা মতে, আকস্মিক আঘাত বা আতঙ্কে তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, যা তার পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং কি কারণে এমন একটি সাধারণ লাফ প্রাণঘাতী হয়ে উঠল, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
মোহাম্মদ বেলালের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বেলালের বাবা-মা এখন বাকরুদ্ধ, তাদের কান্না যেন থামছেই না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার ব্রিজগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং সেখানে কিশোর-তরুণদের অবাধ বিচরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলা নিয়মিত ঘটছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই খালে পানির গভীরতা এবং তলদেশের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকায় এবং লাফ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত আঘাত পাওয়ার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা বলছেন, যদি ব্রিজ এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা থাকত অথবা অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি চালানো হতো, তবে হয়তো এমন মেধাবী একটি প্রাণ অকালে ঝরে যেত না।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবু সালেহ জিহাদীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সমবেদনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মুসল্লী ও সদস্য মোহাম্মদ আলকাস হাওলাদারসহ অন্যান্যরা। তারা শোকাহত পরিবারের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করেন এবং শোকের এই মুহূর্তে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের আশেপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এক কিশোরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ করেনি, বরং গ্রামীণ জনপদে বিদ্যমান অবকাঠামোগত নিরাপত্তার অভাবকেও সামনে নিয়ে এসেছে। কোমলমতি কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারিবারিক সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। মোহাম্মদ বেলালের এই অকাল প্রস্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অবহেলা ও অসাবধানতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ যদি এখন থেকেই সতর্ক না হয়, তবে বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।