বরগুনায় জিলা স্কুলের বাংলার সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর স্যার ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা!..

Atiqur Rahman avatar   
Atiqur Rahman
বরগুনা ব্যাংক কলোনীতে জমি ও বিল্ডিংয়ের মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে বরগুনা জেলা স্কুলের বাংলার সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর স্যার ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে!..

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যৌথভাবে নির্মিত একটি ভবনের সম্পত্তি ভাগাভাগা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর স্যারের সঙ্গে তার শ্যালক মানিক মিয়ার বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণের সময় অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও তা পূরণ না হওয়ায় টাকা চাইতে গেলে মানিক মিয়া ও তার স্ত্রী মিলে তাদের ওপর হামলা চালান। ঘটনা সূত্রপাত হয় শিক্ষক জাহাঙ্গীরকে চড় মারেন তার শ্যালকের স্ত্রী শিক্ষিকা তাজেনুর। সাথে সাথে বাড়ির ভেতরে রড আনার জন্য দৌড়ে ঢুকে পড়েন শ্যালক মানিক, বাঁচার জন্য শিক্ষক জাহাঙ্গীর বাড়ির দরজা আটকে দেন। এদিকে শিক্ষিকা তাজেনুর শিক্ষক জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করেন। শিক্ষক জাহাঙ্গীর নিজের অসুস্থ স্ত্রীকে(হৃদরোগে আক্রান্ত) বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এর আগেও একাধিকবার এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে! এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো হামলার শিকার হন শিক্ষক জাহাঙ্গীর। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও তার শ্যালক মিজানুর রহমান মানিক বরগুনা পৌর শহরের হাচন মোল্লা সড়কে যৌথভাবে ১২ শতক জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেন। তাদের মধ্যে ভবনের প্রবেশপথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। আপোষ বণ্টন দলিল রেজিস্ট্রি করে ভবন নির্মাণ করার পর এখন চলাচলের পথ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ বিরোধ নিরসনে সালিশও চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাজেনুরের স্বামী ও শিক্ষক জাহাঙ্গীরের শ্যালক মো. মিজানুর রহমান মানিক বলেন, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে ভবন নির্মাণ করি। আমাদের অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে তিনি ও তার স্ত্রী সেখানে বাধা দেন! একপর্যায়ে আমাকে ভবনের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রেখে আমার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘তাজেনুর প্রথমে আমাকে থাপ্পড় দেন। পরে তিনি আমার স্ত্রীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। আমি তাদের মারামারি থামাতে গেলে তাজেনুরকে চুল ধরে সরিয়ে দিই। তবে ওই মহিলার গায়ে হাত দেওয়া আমার উচিত হয়নি।’তিনি এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন, এবং তিনি স্বীকার করে বলেন একপর্যায়ে সেলফ ডিফেন্স করতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক আমার মাথা কাজ করতে ছিল না কারণ আমার স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত! 

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ওখানে আগে থেকেই কিছু সাংবাদিক ফিট করে রাখা হয় শ্যালক মানিকের পক্ষ থেকে, তারা আমাকে থাপ্পড় এবং ধাক্কা দেওয়ার ভিডিও ধারণ না করে আমি উত্তেজিত হয়ে যখন আমার স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করি তখন ভিডিও করেছেন এবং বারবার ভিডিওতে বলেছেন "এখন তোমরা একটু মাইর খাও! ভিডিও করতেছি!"

এরপর বারবার ভিডিওতে বলা হয় "ভিডিওতে তোমার মাস্টের গিরি শেষ হয়ে যাবে!"

এছাড়াও আমি বারবার সকলের কাছে রিকোয়েস্ট করতে ছিলাম যে আমার অসুস্থ স্ত্রীকে হামলা করো না, অনুনয় করার পরেও তারা আমার কথা গ্রহণ না করে এবং কেউ আমাকে সাহায্য না করতে এসে উল্টো আমাকে ভিডিও করে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়েছেন পাশাপাশি আমাকে ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করেন বারংবার।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বরগুনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের মারামারির ঘটনা দেখে আমি বিস্মিত। আমরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারিনি বলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটি নিন্দনীয় সামাজিক অবক্ষয়। এ ঘটনায় আমরা শিক্ষক সমাজ লজ্জিত। প্রশাসনের উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিহাদ হোসেন বলেন, ভিডিওটি দেখেছি, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি যেহেতু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সে ক্ষেত্রে আমাদের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত।

বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শিরিন আক্তার বলেন, এটি তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনা হলেও একজন শিক্ষক হিসেবে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, শিক্ষকদের মারামারির ঘটনায় একটি পক্ষ থানায় মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জাহাঙ্গীর স্যারের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দ্রুত বিচার না হলে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

No comments found


News Card Generator