বোয়ালমারীতে অন্যের জমি দখল করে ব্যাক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ..

Faridpur Desk avatar   
Faridpur Desk
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সংখ্যা লঘু পরিবারের জমি দখল করে ব্যাক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ঐ ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাওয়ালি। প্রায় এক বছর আগে তিনি একই গ্রামের স্বপন কুমার সাহার প্রায় ৩০ শতক কৃষি জমি দখল  করে স্থানীয় ফলিয়ার বিল মাঠ এলাকায় ঐ রাস্তা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পক্ষের । জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী সম্প্রতি  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দরখাস্ত দিয়েছেন  বলে জানাগেছে। 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গ্রামের বৃত্ত শালীদের একজন জিয়া বাওয়ালী। ফলিয়ার বিল মাঠে তার অনেক কৃষি জমে রয়েছে। এই জমির ফসল বাড়ি পৌঁছানোর স্বার্থে মাঠের মধ্যে বিদ্যমান সরকারী রাস্তা বা  হালটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষে তিনি বছর খানেক আগে নিজ উদ্যোগে একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ লক্ষে জিয়াউর রহমান বেছে নেন নিরীহ স্কুল শিক্ষক স্বপন কুমার সাহার একখন্ড কৃষি জমি। তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতের আধারে ঐ জমির উপর ২ শত ফুট লম্বা এবং ১২ ফুট চওড়ার বিশাল সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন বলে অভিযোগে। এর মাটিও সংগ্রহ করা হয় সংশ্লিষ্ট জমিটি খনন করে। এতে এক একর আয়তনের জমিটির প্রায় ৩০ শতক জায়গা ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে জানান ভুক্তভোগী। গণমাধ্যমকে স্বপন কুমার বলেন,জিয়া বাওয়ালী যখন রাস্তাটি তৈরি করেন তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায়। টালমাটাল পরিস্থিতিতে আমরা এই দখল কান্ডের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাইনি। তাই নির্বাচিত সরকার আসার পর আশান্বিত হয়ে জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। দরখাস্ত দিয়েছি উপজেলা প্রশাসন বরাবর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্বপন রায়। এদিকে ভুক্তভোগী পক্ষের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়াউর রহমান বাওয়ালী বলেন,পূর্ব আক্রোশের জের ধরে স্বপন কুমার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। ঐ রাস্তার সঙ্গে  আমার কোন সম্পর্ক নেই। ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে নয়,মাঠের কৃষি পণ্য পরিবহনের সুবিধার্তে কৃষকদের দাবীর মুখে সরকারি প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি বাস্তবায়ন করে। এলাকার সচেতন মানুষ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমি সহায়তা করেছি মাত্র। শুধু স্বপন কুমারের জমিই নয়,মাঠের বৃহত্তর স্বার্থে আরো ৭/৮ জন কৃষকের জমির উপর দিয়ে রাস্তাটি নির্মিত হয়েছে।  সরকারি উদ্যোগে রাস্তাটি তৈরি হলেও বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে স্বপন কুমার আমার ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হক বলেন,ফলিয়ার বিলে ব্যাক্তিগত স্বার্থে কোন রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। কৃষকদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে সরকারী অর্থায়নে একটি পুরনো রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। সরকারী কাজ করতে গিয়ে ব্যাক্তিগত ভাবে কেউ হালকা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator