ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্রীয় সনদ পরিবর্তনের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই দ্বিমুখী ম্যান্ডেট বা জনাদেশ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে ভবিষ্যৎ সংসদের উচ্চকক্ষ বা ‘আপার হাউস’ গঠন প্রক্রিয়াটি আসলে কেমন হবে? কারণ, জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে বিএনপির আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, যা এখন নতুন আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে। অন্যদিকে, গণভোটে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গণভোটের অন্যতম প্রধান প্রস্তাব ছিল আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং ১০০ জন সদস্য নিয়ে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, যারা আনুপাতিক হারে বিভিন্ন দল থেকে মনোনীত হবেন।
সাংঘর্ষিক অবস্থান ও বৈধতার সংকট জুলাই সনদে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত বলা থাকলেও বিএনপি এ বিষয়ে আগে কিছু ভিন্নমত পোষণ করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘একদিকে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, অন্যদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে দুটি ‘সাংঘর্ষিক’ বিষয়েরই বৈধতা তৈরি হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গণভোট একটি শক্তিশালী বিষয়, যা পরিবর্তন করা কঠিন। তবে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপির ‘স্পেস’ বা সুযোগ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি তাদের আগের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তিগুলো নিয়ে অনড় থাকে, নাকি গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমঝোতার পথে হাঁটে।’’
ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া জুলাই সনদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পর সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে। এরপর উচ্চকক্ষের কাঠামো, সদস্য সংখ্যা ও ক্ষমতা নির্ধারণে পৃথক আইন হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেহেতু জুলাই সনদের বিষয়গুলো সরাসরি বাস্তবায়নের সুযোগ নেই, তাই আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে একটি রূপরেখা তৈরি করা আবশ্যক।



















