ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের নেপথ্যে ডিজিএমের পদোন্নতি? ভোগান্তিতে প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহক..

Md Ubaydullah Rume avatar   
Md Ubaydullah Rume
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের নেপথ্যে ডিজিএমের পদোন্নতি? ভোগান্তিতে প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহক..
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের নেপথ্যে ডিজিএমের পদোন্নতি? ভোগান্তিতে প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহক..
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ:
আঞ্চলিক ভাষায় পড়ুন:

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর আওতাধীন ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসে প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন| স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার সত্ত্বেও অনেক গ্রাহকের কাছে কয়েকগুণ বেশি বিল পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে| গ্রাহকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত মিটার রিডিং সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর ও অতিরিক্ত বিল তৈরি করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন|

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকসেবার পরিবর্তে কিছু কর্মকর্তা নিজেদের প্রশাসনিক সাফল্য ও পদোন্নতি অর্জনের লক্ষ্যে রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান বাড়াতে ব্যস্ত থাকায় এ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে| ফলে প্রকৃত ইউনিট ব্যবহারের সঙ্গে বিলের কোনো সামঞ্জস্য থাকছে না। অনেকেই স্বাভাবিকের দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি চারগুণ পর্যন্ত বেশী বিল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন|

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে অফিসে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না| অনেক ক্ষেত্রে বারবার অফিসে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে| এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই অপচয় হচ্ছে|

ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসে সেবা নিতে আসা মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়া, নুরুল ইসলাম, ওয়াফিজ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, আলম মিয়া ও রফিকুল ইসলামসহ একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিলের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নিকাশ নেই| অফিসের ইচ্ছামতো বিল তৈরি করা হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে অনেক গ্রাহকের স্বাভাবিক বিলের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি বিল এসেছে|

তারা জানান, যেসব গ্রাহকের মাসিক বিল সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে থাকত, তাদের কারও কারও কাছে এবার ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার বিল এসেছে| এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে|

শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন| উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, দোকানপাটের বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে|

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা ডিজিএম স্যার পদোন্নতি পাওয়ার লক্ষ্যে অধিক রাজস্ব আদায়ের চিত্র দেখাতে চাপ সৃষ্টি করেছেন| তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে মিটার রিডাররা যে তথ্য সংগ্রহ করেন, অফিসে প্রস্তুত করা অনেক বিলের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যাবে না|

বিলিং সেকশনের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার লুৎফা বেগমের কাছে অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিল প্রস্তুতের কাজ আমাদের সেকশন থেকেই করা হয়| তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ডিজিএম স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে| মাঠপর্যায়ের মিটার রিডারদের তথ্য অনুযায়ী বিল করা হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঠের তথ্য অনুযায়ীও বিল করা হয়, আবার ডিজিএম স্যারের নির্দেশনাও অনুসরণ করা হয়|

এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুকের কাছে মাঠপর্যায়ের তথ্য ও অফিসে প্রস্তুতকৃত বিলের মধ্যে কোনো গরমিল রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি| তিনি বলেন, বিলিংয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিলিং সেকশনের| এ বিষয়ে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই| আমি বর্তমানে অস্থায়ীভাবে ডিজিএমের দায়িত্ব পালন করছি| বিস্তারিত বিষয়ে ডিজিএম স্যারই ভালো বলতে পারবেন|

এবিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম গোলাম মোস্তফাকে মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি|

খবরের সাথে চ্যাট করুন (AI Chat with the News)
Powered by AI
📋 ৩ লাইনে সারসংক্ষেপ
🔍 মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট
👥 প্রধান ব্যক্তি/পক্ষ
⚡ প্রভাব ও পরিণতি
AI Assistant
নমস্কার/সালাম! আমি এই সংবাদের বিবরণটি পড়েছি। এই খবরের যেকোনো তথ্য জানতে আমাকে প্রশ্ন করুন।
এআই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন (AI Satirical Cartoon)
Instant Caricature
Eye News Logo

সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।

No comments found


News Card Generator