পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও উন্নয়নের ফুলঝুরি প্রতিশ্রুতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
দিনাজপুর–৪ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্রে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে দুই প্রতীকে—ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা দৌড়ে থাকলেও ভোটের মাঠে তাদের তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের বড় একটি অংশ।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দিনাজপুর–৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান মিয়া। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম (লাঙ্গল) নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা সমানতালে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। পথসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ এবং সভা-সমাবেশে এই দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অন্যদের তুলনায় বেশি। প্রচারণার তীব্রতায় এলাকায় বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয় ভোটার পার্থ সরকার বলেন, “এবারের নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এখন পর্যন্ত প্রচারণার যে চিত্র, তাতে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই মূল লড়াই হবে, মনে হচ্ছে।” তবে নির্বাচন এলে প্রার্থীরা কথায় বলে, নির্বাচন শেষ হলেই তাদের দেখা পাওয়াই মুশকিল। অন্যদিকে হাতপাখা প্রতীকের আনোয়ার হোসেন ও লাঙ্গল প্রতীকের নুরুল ইসলামের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে শেষ মুহূর্তের ভোটের সমীকরণ যে ফলাফল পাল্টে দিতে পারে, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না
আর এক ভোটার সাইদুর রহমান বলেন, " কাকে ভোট দিব ভাবতে পারছি না। মূল দুই দলকেই হিসাব করতে হচ্ছে। সবাই কমবেশি উন্নয়নের কথা বলছে। মনে হয় ধানের শীষ জিতবে। তবে বলা মুশকিল কে হবে।'
খানসামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মজিদুল ইসলাম জানান, খানসামা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৭ হাজার ৫২২ জন, নারী ভোটার ৭৬ হাজার ৪৩৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।
চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুস সবুর জানান, চিরিরবন্দর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩১৯ জন। এ উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। তবে পুরুষ ও নারী ভোটারের পৃথক সংখ্যা পাওয়া যায়নি। এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর–৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮ জন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সব মিলিয়ে, দিনাজপুর–৪ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই মূল লড়াই হবে—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে শেষ মুহূর্তের ভোটের অঙ্ক যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে, সে আশঙ্কাও থাকছে।



















